
জৈন যুগের নগর সভ্যতা।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : জৈন সন্ন্যাসীদের বাসস্থানে কোন কোন সময়ে স্ত্রীলোক নিয়ে পুরুষেরা প্রবেশ করত নিকটাত্মীয় বা বোন বলে ঐ স্ত্রীলোকের পরিচয় দিত। এইভাবে স্থান পেয়ে উক্ত লোকটি ঐ নারীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হ’ত। এইসব কাণ্ড নিবারণার্থে নিয়ম করা হয়েছিল যে, নারীসহ কেউ এলে তাকে স্থান দেওয়া হবে না।পতিতা নারীর খপ্পরে পড়ে মোহগ্রস্ত সন্ন্যাসীর কি করুণ অবস্থা হয়েছিল তার বর্ণনা আছে। সূত্রকৃতাঙ্গে। তাঁর দুর্বলতা বুঝে ঐ নারী তাঁকে চাকরের মত খাটাত, পায়ে আলতা পরাত, গা টেপাত, এমন কি খাটা পায়খানা খোঁড়াত।

জৈন যুগে উৎসব
প্রাচীন ভারতে জলসা, প্রমোদভ্রমণ, এমন কি কোন কোন ধর্মীয় উৎসবেও গণিকা অংশগ্রহণ করত। এমনই একটি উপলক্ষ্য ছিল সংখাড়ি ( সম- বৃহৎ সংখ্যা, খাড় -বধ; এই উৎসবে বহু পশুবধ করা হ’ত। এতে স্ত্রী- পূরুষেরা মদ্যপান করে হুল্লোড় করত। সন্ন্যাসীরা এসব অনাচার থেকে দূরে থাকতেন।

প্রাচীন ভারতে জৈন সন্ন্যাসী
গোষ্ঠী নামক সমাবেশে সংগীত ও অন্যান্য কলাবিদেরা যোগদান করতেন। এখানে গণিকাদের আনাগোনা ছিল। বিপাক সূত্রে (৯) আছে যে, প্রচুর মদপান করে কুড়িটি লোক কামলতা নামে এক নারীর প্রতিআসক্ত হয়ে উদ্যানে বিচরণ করতে করতে একজন জৈন সন্ন্যাসীকে দেখে , ইনি তাদের আমোদের অন্তরায় হবেন এই ভেবে তাঁকে হত্যা করতে আগ্রাসন হলে নিজেরাই একটি এঁদো কুয়ায় পড়ে প্রাণ হারায়।( চলবে)
