বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব :২৫৬

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: রায়দুর্লভ মহারাজা মহেন্দ্র বর্ধমান , নবদ্বীপ, দিনাজপুর , বিষ্ণুপুর , বীরভূম ও মেদিনীপুরের রাজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিরাজের বিরুদ্ধে একটা চক্র গড়ে তোলার কাজে ইন্ধন যোগান। নিজেরা স্থির করে কৃষ্ণনগরের বুদ্ধিমান রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরামর্শ চাইলেন। কৃষ্ণচন্দ্র শুধু পরামর্শদাতা নন তিনিও সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তের শরিক হলেন।

মুর্শিদকুলি খাঁ।

বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দু জমিদারদের ক্ষোভ যে শুধু সিরাজকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে এরকম ভাবাটা বোধহয় ভুল হবে। বাংলায় মুসলিম আগমন এবং তাদের শাসন ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায়ের কায়দা ছিল জমিদারদের ভীতির ব্যাপার। মুর্শিদকুলি খাঁয়ের সময় থেকে জমিদারদের ওপর শোষণের মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

পলাশীতে সিরাজের মূর্তি

ফলে জমিদারদের বেশি করে রাজস্ব আদায়ের চেষ্টা বাড়ে। আক্রান্ত হন সাধারণ মানুষ এলাকায় এলাকায়অশান্তি । সাধারণ মানুষদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে আঞ্চলিক শাসকদের বিরুদ্ধে। নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ তাঁর নিকটআত্মীয় সৈয়দ রেজা খানকে দায়িত্ব দেন রাজস্ব দিতে অপারগ জমিদারদের ধরে দিল্লিতে নিয়ে আসার। তাঁদের শাস্তি ছিল বৈকুণ্ঠবাস। যা আসলে একটি নোংরা ঘুপচি ঘরে আটক থাকা।

যতক্ষণ না জমিদাররা দিল্লির সম্রাটের পাওনা রাজস্ব মেটাতেন ততক্ষণ আটক থাকতে হতো। সুতরাং মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে জমিদারদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। জাহাঙ্গীর তো বলেছিলেন বাংলা হলো বিদ্রোহের নগরী। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *