বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৫২

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বাংলার নবাব সিরাজ মানুষটা কেমন ছিলেন তাই নিয়ে নানা মুনির নানা মত। ঐতিহাসিকরা প্রায় সবাই দ্বিধাবিভক্ত । বিশেষকরে এপার বাংলার মত , নবাব সিরাজ ছিলেন চরিত্রহীন, মাতাল বি, লম্পট, নিষ্ঠুর এবং স্বার্থপর। রাজ্য শাসনের পক্ষে অনুপযুক্ত। তাই মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বাধ্য হয়ে। সিরাজ রাজ্য হারান। বকলমে রাজ্যের শাসন যায় ইংরেজের হাতে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিকেরা বলেন উল্টো কথা। তাঁরা বলেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ইংরেজের তোষামোদ করে সিরাজকে লম্পট ও ব্যর্থ নবাব প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র। সিরাজ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। না হলে তাঁর সভাসদের তালিকায় হিন্দু উমিচাঁদ, রাজবল্লভ,কৃষ্ণবল্লভ, দুর্লভ রায় জগৎ শেঠ থাকেন কি করে? এরাই তো ব্যক্তি স্বার্থে মুনাফার পাহাড় গড়তে মীরজাফরকে বলির পাঁঠা করে বিদেশি শক্তি ইংরেজের সঙ্গে মৈত্রী গড়ে সিরাজকে পদচ্যুত করে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিকদের তথ্যকে এপার বাংলার একমাত্র ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্র সমর্থন করেন।

অক্ষয়কুমার মৈত্র ছিলেন বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার তৎকালীন প্রথম সারির আইনজীবী। পাশাপাশি সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি, চিত্রকলা ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে পণ্ডিত। তিনি চেয়েছিলেন বাংকার্ট সঠিক ইতিহাস রচিত হোক। মেকলের লেখা ক্লাইভ অ্যান্ড হেস্টিংস বইটি পরের বোঝেন ইংরেজ ইচ্ছের করেই বিকৃত ইতিহাস রচনা করেছে।

ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্র প্রমাণ করেন এপার বাংলার ঐতিহাসিকেরা ইংরেজের সঙ্গে স্বার্থের কারণে সিরাজ সম্পর্কে বিকৃত ইতিহাস লিখেছে। প্রতিবাদে তাঁর গবেষণালব্ধ এই গ্রন্থ ।

এরপর তিনি গবেষণায় উদ্যোগী হন। বাংলার প্রাচীন মধ্যযুগ নিয়ে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা ছাপাও শুরু করেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকেআদর্শ আধুনিক শীর্ষস্থানীয় বাংলা লেখকদের তালিকায় যুক্ত করেন। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রচুর গবেষণা করে সিরাজউদদৌলা নামে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।২৯২৬ সালে এক সভায় তিনি অন্ধকূপ হত্যা একটি বিকৃত কাহিনীর ইংরেজের প্রচার জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অক্ষয় কুমার মৈত্র প্রয়াত হন ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ১৬ অক্টোবর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *