বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

ঈশা খাঁ লোহানী।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বাংলার অন্যতম বারোভূঁইয়াদের অন্যতম পীতাম্বর ও নীলাম্বর দুই ভাইয়ের প্রাসাদ ছিল দেখার মত। অবশ্যই এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা পীতাম্বর। সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে রাজা উপাধি দেন। পীতাম্বরের মৃত্যুর পর রাজা হন ছোটভাই নীলাম্বর। সেই বাড়ির সম্পদ কালের নিয়মে আজ লুঠ হয়ে গেছে। পড়ে আছে একটি লোহার ফাঁকা সিন্দুক।১৮৯৭ সালে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে রাজবাড়ির পরিকাঠামো অনেকটাই ধ্বংস হয়ে যায়। বাঙালির ইতিহাস সংরক্ষণে দুই বাংলার শাসকেরাই নিস্পৃহতা থেকে গেছে। তবে পরে নাকি বাংলাদেশের সরকার সংস্কার কিছু করেছে।

কতলুক খাঁ।

আর এক বারোভূঁইয়ার অন্যতম ইশা খাঁ লোহানী ও ওসমান খাঁ লোহানীর পরিচয় জানতে ফিরে যেতে হবে উড়িষ্যায়। পুরীর শাসক তখন ছিলেন আফগান যোদ্ধা কতলুক লোহানী।১৩৪৬ সালে পরিব্রাজক ইবন বতুতা লিখে গেছেন, মোঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মুনিম খানের আক্রমণে গৌড়ের শেষ স্বাধীন পাঠান নবাব দাউদ কাররানীর পাঠান সেনাপতি কত লুক খাঁ -এর বংশধর ফতেহ খাঁ লোহানী ভি, খাজা উসমান, কায়োজিদ খাঁ পালিয়ে যান বঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে। সেখানেই নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। ফতেহ খান লোদানী সিলেট জয় করেন

পাঠান বীর কতলুক খান নিহত হন চিরশত্রু মোঘল সেনাপতি মানসিংহের হাতে । এই কত লুক খানের বি জ্ঞাতিভাই ভি ইশা খাঁ লোহানী বি কতলুক খাঁয়ের আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে বঙ্গে ভি থাকতেন। কতলুক খাঁয়ের মৃত্যুর পর ( ১৫৮৯) তাঁর নাবালক সন্তানদের পক্ষে বাংলার সুবেদার ছিলেন। ইশা খাঁয়ের মৃত্যুর পর জমিদারির দায়িত্ব নেন তাঁর পুত্র উসমান খা লোহানী। পরবর্তী সময়ে উসমান খাঁ লোহানীর সঙ্গে আকবরের সেনাপতি মানসিংহের চুক্তি হয়। কেননা বাংলায় আধিপত্য ঠেকানোর পদক্ষেপ মানসিংহ নিলে উসমান খা সপ্তগ্রাম দখল নেন।১৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে ভূষনা পর্যন্ত আর এক ভূঁইয়া কেদার রায়কে পরাস্ত করেন। (চলবে)

আগামী পর্ব ১৭ মে, রবিবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *