
বৌদ্ধযুগে গণিকা।
সুজিত চট্টোপাধ্যায়: গনিকাবৃত্তি যে বৌদ্ধ যুগে অতি ব্যাপক ছিল,তার অন্যতম প্রমাণ পালিতে
গণিকাবাচক বেশ কয়েকটি শব্দের প্রয়োগ। বেসী, নারিয়ো, গামণিয়ো, নগরসোভণি,বন্নদাসী, কুম্ভ দাসী। গণিকারা পুত্র সন্তানকে পরিত্যাগ করে কন্যা গণকে সযত্নে লালন করত। আশা যে, সে একদিন তাদের ব্যবসা রক্ষা করবে। গণিকারা বহু ক্রীতদাসী নিযুক্ত করত। বন্নদাসী বোধহয় ছিল এমন ক্রীতদাসী। গণিকাদের সঙ্গে যে সঙ্গীতজ্ঞ ব্যক্তিরা বাস করত তাদের বলা হতো গন্ধর্ব। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়, যে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং বিহারে একশ্রেণীর বারবণিতারা গন্ধর্ব জাতির অন্তর্ভুক্ত বলেই নিজেদের পরিচয় দেয়।

বৌদ্ধ সাহিত্য মহাবস্তু।
অন্যান্য অনেক জাতক বৌদ্ধ গ্রন্থেও গণিকা সম্বন্ধে কিছু কিছু তথ্য আছে। মহাবস্তুর একটি কাহিনী এইরকম: কোন এক নগরের অগ্রগণিকা একজন সুন্দর লোককে তার সঙ্গে তার সঙ্গে শোয়ার জন্য আহবান করত। একদিন এক একটি শ্রেষ্ঠীপুত্র একরাত্রি ওই গণিকার সঙ্গে থাকার জন্য তার উপযুক্ত মূল্য দিতে চাইলে সে তাকে প্রত্যাখ্যান করে বলল যে সে অপর একজনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তি পরদিন গণিকাকে বলল যে সে আগের দিন সারারাত ওই গণিকারর সঙ্গে প্রেমবদ্ধ বলে স্বপ্ন দেখেছে। তখন গণিকার ভতকম বা মূল্য চাইল। ফলে কলহ সৃষ্টি হল। অবশেষে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি একটি আয়না এবং গণিকার একরাত্রি বাসের মূল্য আনতে বললেন। আনা হলে তিনি শ্রেষ্ঠীপুত্রকে আদেশ দিলেন, আয়নার সামনে টাকার ঝুরি ধরতে- এবং বণিকাকে বললেন, আয়নাতে যে প্রতিবিম্ব পড়েছে তা ধরতে। এইভাবে বিবাদের মীমাংসা হলো।

বৌদ্ধযুগের গণিকা।
এই গ্রন্থে সালবতীর উল্লেখ আছে। সে ছিল রাজগৃহের এক সুন্দরী কন্যা। নৃত্য, গীত ও বীণা বাদনে অভিজ্ঞা এই নারী গণিকারূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার মূল্য ছিল এক রাত্রির জন্য ১০০ কার্য্য পণ।একবার সালবতী অন্তঃসত্ত্বা হলে নিজের মান রক্ষার জন্য রটিয়ে দিল যে সে অসুস্থ। কেউ তার কাছে আসত না। কালক্রমে তার পুত্র সন্তান হলে তাকে ধুলিস্তুপে নিক্ষেপ করা হলো। ভাগ্যের এমনই বিধান যে শিশুটিকে অভয় নামে এক ব্যক্তি তুলে নিয়ে প্রতিপালন করতে লাগল। এই শিশুই একদিন যুবক কুমারভৃত্য নামে বিখ্যাত চিকিৎসক হয়েছিল। এসবই উল্লেখ আছে সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লিখিত ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে। (চলবে)
