শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:১৯৮

বাংলার রাঢ় অঞ্চলে নাচনি ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সমকাম সম্পর্কে আলোচনা আপাতত সরিয়ে বাংলার এক নারীদের পেশাগত ইতিহাস হাজির করছি। রাঢ় বাংলার নিতান্ত দরিদ্র শ্রেণীর বহু মেয়ে নাচনি পেশা বেছে নিত। যা বংশানুক্রমে চলত। কেননা একবার নাচনি দলে নাম লেখালে সেই পরিবারের মেয়েদের ফিরে আসার রাস্তা থাকত না। সমাজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিত না। এখন পরিস্থিতি পাল্টালেও পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। পুরুলিয়ার এমন এক নাচনি পোস্তবালাদেবীর কথা উল্লেখ করেছেন সুকান্ত সরকার ২০১৮ সালে ১৭ জুন রবিবার সাময়িকী পৃষ্ঠায়।

নাচনি পোস্তবালাদেবী।

সুকান্তবাবু লিখেছেন,,,, পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে কি? পৌঢ়া নাচনি পোস্তবালাদেবী আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে বললেন, হ্যাঁ, কিছুটা নয়, অনেকটাই পাল্টেছে তবে, এখনও অনেকটাই বাকি। শহর এখন শহর- লাগোয়া গ্রামাঞ্চলে নাচনিদের নিয়ে ছুঁতমার্গ বেশ কিছুটা কাটলেও মানভূমের গ্রামাঞ্চলে আজও নাচনিদের অচ্ছুৎ এক প্রাণী হিসেবেই দেখা হ্য় বলে জানিয়েছেন একাধিক নাচনি। আগে যেভাবে খারাপ চোখে দেখত আমাদের এখন ততটা নয়। আগে রসিক আর বাজনাদার ছাড়া। কেউই। আমাদের সঙ্গে কথা বলত না। মেলামেশাতো দূরের কথা! গ্রামের পুকুরে অন্যদের স্নান করার সময়ে কোনও নাচনি নামতে পারত না। কুয়ো বা চাপাকল থেকে প্রকাশ্যে জল নিতে পারত না নাচনিরা। দোকানে গেলে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, অন্যদের জিনিসপত্র দেওয়ার পর ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে।

দিদি নং ওয়ান অনুষ্ঠানে সঞ্চালিকা রচনা ব্যানার্জির সঙ্গে নাচনি পোস্তবালাদেবী।

লেখক লিখেছেন,দোকানি জিনিস দিত এবং পয়সা নিত বলে চললেন পোস্তবালা, আজও এই ধারা গাঁয়ে গঞ্জে আছে পুজো পার্বণে বা মেলায় নাচনির নাচ -গান শুনতে মানুষ ভিড় করলেও আজও গাঁয়ের মানুষ কোনও অনুষ্ঠানে নাচনিকে নেমন্তন্ন করে না। অসুখ করলে অন্য গাঁয়ে গিয়ে পরিচয় গোপন করে বা শহরে এসে ডাক্তার দেখাতে হয় নাচনিকে। যা এই পুরুলিয়া শহরে থেকে বোঝা যাবে না। কারা এই নাচনি? আগামী পর্বে। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ,১৬ মার্চ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *