বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:১৯৭

মুরারী গুপ্ত বিরচিত শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থে বিষ্ফোরক তথ্য

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: আগের পর্বে জানিয়েছিলাম বিমানবিহারী মজুমদার এক চৈতন্যভক্তকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বিশ্বম্ভর তাঁর বন্ধুদের উলঙ্গ করে দেন এমন কথা সে বিশ্বাস করে কি না? ভক্ত জবাব দেন , এমন অপকীর্তি তিনি করতে পারেন তা বিশ্বাস করি না। এরপর বিমান বিহারী তাঁকে নবদ্বীপলীলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী মুরারি গুপ্তের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত হইতে নিম্নোক্ত শ্লোকটি দেখাইলাম,,,,,, প্রক্ষিপ্ত নহে; কেননা ভক্তি রত্নাকরের ৯৪৫-৯৪৬ পৃষ্ঠায় উহা উদ্ধত হইয়াছে।( শ্রী চৈতন্যচরিতের উপাদান , সংস্কৃত বুক ডিপো, কলকাতা, জানু ২০০৬, পৃষ্ঠা ৪),,,,,,,,, কালকূটের রচনা থেকে একটি উদাহরণ উদ্ধার করা যাক – ” শেষের সেই দিনটিতে যাবার আগে কৃষ্ণদাস কবিরাজের একটি উদ্ধৃতি না দিয়ে পারছি না। তিনি একস্থানে বলেছেন সহজীয়া বৈষ্ণবরা দাবী করতেন, সার্বভৌম কন্যা ষষ্ঠীর সঙ্গে চৈতন্যের সহজলীলা চলতো। সেইজন্য ষষ্ঠীর বর খারাপ কথা বলতো এবং স্বয়ং ষষ্ঠীর মাতা বলতেন , জামাই না থেকে বরং আমার ষষ্ঠী রাড়ি হউক।

রমাকান্ত চক্রবর্তীর বঙ্গে বৈষ্ণব গ্রন্থে চৈতন্যের কাব্যে উল্লেখিত হয়েছে এক বিষ্ফোরক তথ্য।

কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য চরিতামৃতর কোন সংস্করণে তিনি এই তথ্য অবশ্যই পেয়েছিলেন এবং সেই সংস্করণ তাঁর কাছে নির্ভরযোগ্য বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান লভ্য সংস্করণগুলিতে শাটীর ( ষষ্ঠী) মায়ের উক্তিটি পাওয়া গেলেও কোন অজ্ঞাত কারণে কালকূট উদ্ধৃত বাকি কথাগুলি পাওয়া যায় না। যদি কালকূটের লেখা সংস্করণটিতে এই তথ্য প্রক্ষিপ্ত হয় তবে বলতে হচ্ছে, এটি তথ্যবিকৃতির একটি উদাহরণ।আর যদি তা না হয়, তবে এটিকে তথ্যলোপ ছাড়া আর কী বলা যায়!,,,, প্রসঙ্গত শ্রী রমাকান্ত চক্রবর্তী তাঁর বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রন্থে কিন্তু এই শ্লোকের অনুবাদে কৌমার্যহরণ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।,,,, শ্রী চক্রবর্তী তাঁর বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন- কৃষ্ণদাস কবিরাজকাঞ্চনে বিরক্ত সন্ন্যাসী চৈতন্যের দ্বারা দুইবার আবৃত্তি করিয়েছেন একটি সুগভীর আদিরসাত্মক শ্লোক। শ্লোকটি উদ্ধৃত করি।,,,,, যে রেবানদীর তীরে বেতসিতরুতলে আমার কৌমার্য হরণ করেছিল এখন সে আমার বিবাহিত স্বামী ও যে চৈত্ররাতে সে আমার কৌমার্য হরণ করেছিল, আজও তেমনি। চৈত্রের এক রজনী। কদম ফুলের গাছ দুলিয়ে , ফোটা মালতী ফুলের গন্ধ নিয়ে সে রাতের বাতাস আজও বইছে। আমিও সেই নায়িকাই আছি ,কিন্তু সুরতের জন্য ( ঘর নয়) সেই রেবানদীর তীরে বেতসীতরুতলে যাওয়ার জন্যই আমার চিত্তে প্রবল উৎকণ্ঠা।

,,,,,,,,, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় – কামিনীকাঞ্চনে বিরক্ত , ভক্তিমূলক সদাচারের প্রচারক চৈতন্য কৌমার্য হরণ বিষয়ক এমন আদিরসাত্মক শ্লোক আবৃত্তি করেছিলেন।( বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম , আনন্দ,১৯৯৬, পৃষ্ঠা ৫০) লেখক তুহিন মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, শ্রী চক্রবর্তী একটি ভুল তথ্য দিয়েছেন এই শ্লোকটি দুইবার নয়, চৈতন্যের জবানীতে শ্লোকটি তিনবার উদ্ধৃত হয়েছে। ( চৈতন্যচরিতামৃত, আনন্দ, বৈশাখ ১৪০২ , মধ্য- প্রথম পৃষ্ঠা ১১৫, মধ্য ত্রয়োদশ পৃ :২৩২ এবং অন্ত্য -প্রথম পৃ ৩৭৫)। (চলবে )

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ১৩ মার্চ,২০২৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *