
শিল্পীর কল্পনায় নর্তকী, গণিকা আম্রপালি।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আম্রপালি প্রথম জীবনে ছিলেন নর্তকী। ছিলেন গণিকা। পরবর্তী জীবনে জীবনের উপলব্ধিতে তিনি বুদ্ধদেবের শরণাপন্ন হন। বৈশালীর্ উদ্যানে বুদ্ধদেবের দর্শন করে তিনি ধর্মোপদেশ লাভ করেন। আম্রপালির হাতে পায়েস খান বুদ্ধে। ধনী আম্রপালি বুদ্ধদেবের সংঘে একটি বিহার দান করেন। পালি ভাষায় বিহার অর্থ একটি আবাস। মঠ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে আম্রপালি দিব্যজ্ঞান অর্জন করে জ্ঞানচক্ষু লাভ করেন। থেরী হিসেবে পরিচিতা হন। পালি ভাষায় থেরী অর্থ সম্মানিত বৌদ্ধ ভিক্ষুণী। পালি ভাষায় রচিত থেরী গাঁথা’য় আম্রপালি স্মরনীয় হয়ে আছেন।

জৈন সাহিত্যেও চম্পা নগরীর গণিকার উল্লেখ আছে।
শুধু বৌদ্ধ সাহিত্যে নয়, জৈন সাহিত্যেও গণিকা সম্পর্কে নানা তথ্যের উল্লেখ করেছেন সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী ,,, গ্রন্থে। বলা যায় সমকালীন সমাজের প্রতিচ্ছবি আছে এই সাহিত্যে। জাতধর্মকথা’য় (১) চম্পা নগরীর এক গুণবতী এক গণিকার শুধু ঋণের নয়, রূপেরও বর্ণনা আছে। তিনি ছিলেন ৭২ টি পরম্পরা গত কলাভিজ্ঞা এবং গণিকোপযোগী ৬৪ টি গুণের অধিকারিণী। এই ৬৪ টি গুণ নৃত্য -গীতাদি চৌষট্টি কলা হতে পারে অথবা এই সংখ্যক রতি সংক্রান্ত ভঙ্গী বা আলিঙ্গন বোঝাতে পারে।

জৈন সাহিত্যেও চম্পা নগরীর গণিকার উল্লেখ আছে।
তাছাড়াও চম্পানগরীর সেই গণিকার ছিল ২৯ টি বিশেষ গুণ। ৩১ ধরণের রতিগুণ এবং ৩২ রকমের পুরুষোপচার অর্থাৎ পুরুষকে সেবা করার পদ্ধতি। তাঁর গুণাবলীর মধ্যে বি১৮ টি আঞ্চলিক ভাষায় বুৎপত্তি , রসবোধ ও কেতাদুরস্থ ভাব। তিনি কর্নীরথে অর্থাৎ ঢাকা গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন। তাঁর অধীনে ছিল এক হাজার গণিকা। (চলবে )
