বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৬৪

রাজা লক্ষ্মণ সেন।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সেনরাজারা ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুসারী।বাংলায় এসে বৈষ্ণব তন্ত্রের আগ্রাসনে শৈব শাখা ছেড়ে বৈষ্ণব শাখায় চলে যান। অন্যতম কারণ লক্ষ্মণসেনের স্ত্রী ছিলেন উত্তর প্রদেশের কনৌজ এর রাজার কন্যা। উত্তরপ্রদেশ তখন লৌকিক বা বৌদ্ধধর্মের অবসান ঘটিয়ে বৈষ্ণব হয়ে যায়। বাংলায় যদিও বৌদ্ধ ধর্মের ক্ষয় শুরু হলেও এই ধারা লৌকিক ধম্মপুজোর নামে বকলমে বৌদ্ধতন্ত্রে প্রভাবিত হয়ে অহিন্দু অস্তিত্বির রক্ষা করছিল। ক্রমশ এই ধারা ব্রাহ্মন্য ও তান্ত্রিকদের বিষ নজরে পড়ার ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে।

কলকাতার ধর্মতলায় ছিল লৌকিক দেবতা ধম্ম ঠাকুরের থান।

ধম্ম ঠাকুরের অনুসারী কবির লিখলেন, বৈকুণ্ঠে থাকিয়া ধর্ম মনেতে পাইয়া মর্ম মায়ারূপে হইল খনকার। ধর্ম হইল যবনরূপী, শিরে নিল কাল টুপি, হাতে শোভে ত্রিকচ কামান। যতেক দেবতাগণ সবে হয়ে একমন , আনন্দেতে পরিল ইজার। বিষ্ণু হইল পয়গম্বর ব্রহ্মা হইল পাকাম্বর ( হযরত মহম্মদ) আদন্ত হইল হইল শূলপানি।

সহজিয়া তন্ত্রে অবাধ যৌনতার স্বীকৃতি ছিল,?

সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লেখকদ্বয় তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে ২৮৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে যেমন সহজিয়া ছিল, তেমনই বৌদ্ধ সহজিয়াও ছিল। সহজিয়া মতবাদীরাপ্রচলিত সামাজিক রীতি-নীতি, আচার অনুষ্ঠান মানত না। এদের ধর্মচর্চার একটি প্রধান অঙ্গ ছিল পরকীয়া প্রেম, সাধারণ ভাষায় যার নাম ব্যভিচার। বঙ্গের বৈষ্ণব সম্প্রদায়েও অধ্যাত্ম জগতে নিজের স্ত্রীর প্রতি বৈধ প্রেম অপেক্ষা পরস্ত্রীর প্রতি অবৈধ প্রীতি শ্রেয় বলে পরিগণিত হ’ত। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ৩০ অক্টোবর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *