শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৫৩

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ব্রাহ্মণ্যবাদী ইংরেজপদানত ঐতিহাসিকের কলমে সিরাজদ্দৌলাকে বিকৃত করে দেখানোর প্রচেষ্টায় বিপরীত মেরুতে ছিলেন অক্ষয় কুমার মৈত্র। তিনি তাঁর সিরাজদ্দৌলা শিরোনামের গবেষণা পত্রে লেখেন, সিরাজ ছিলেন দেশপ্রেমিক। সাহসী যোদ্ধা, ধৈর্যশীল, নিষ্ঠাবান, নীতিবান ধার্মিক। জীবনে কোনদিন মদ ছুঁয়ে দেখেননি। তবে অক্ষয় কুমার মৈত্র তাঁর লেখনীতে সিরাজের তারুণ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখেন , কৈশোর পেরোনোর পর প্রথম জীবনে সিরাজ ছিলেন উচ্ছৃঙ্খল।

সিরাজদ্দৌলা।

রাজ্যের সুন্দরী নারীদের প্রতি ছিল তাঁর সজাগ দৃষ্টি। এক কাহিনীর কথাও উল্লেখ করেছেন লেখক। সিরাজ একদিন ভাগীরথী নদীতে বজরায় সান্ধ্য ভ্রমণ করছিলেন।আজিমগঞ্জের অর্থাৎ আজকের নাটোরের মহারাণী ভবানীর কন্যা নদীর তীর সংলগ্ন রাজ প্রাসাদের ছাদে দাঁড়িয়েছিলেন। সূর্যের কণে দেখা আলোয় সিরাজ অবশ্যই মাথায় চুলের গোছায় সুন্দরী তারাকে দেখেন। তৎক্ষণাৎ তারাকে পাওয়ার জন্য ঘাটে তরী বাঁধেন।

রাণী ভবানী।

তারা ছিলেন বালবিধবা। স্বামী প্রয়াত রঘুনাথু লাহিড়ী। রাণী ভবানীর পুত্র মা থাকায় ছিল না সম্পত্তির অধিকারী। স্বামীর মৃত্যুটি পর কন্যাকে নিজের কাছেই নিয়ে আসেন রাণী ভবানী। সিরাজের আগমনের হাঁটুর বুঝতে রাণী ভবানীর একটুকুও দেরি হয়নি। বাংলার নবাবকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাণীর ছিল না। বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন্ট মেয়েকে সম্মান বাঁচাতে তাঁকে চিতায় তুলবেন। সেইমত রাতারাতি চিতা প্রস্তুত হ’ল। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ১৮ অক্টোবর ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *