শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৬১

চণ্ডীদাস ও রজকিনী।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থি লিখেছেন,,,,, খ্রিস্টীয় ১৭/১৮ শতকে বৌদ্ধ সহজিয়া বাদের অনুরূপ বৈষ্ণব সহজিয়া সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। কবি চণ্ডীদাস ছিলেন বৈষ্ণব সহজিয়া মতের প্রথম সাধক ও প্রচারক। শোনা যায় , রাখী নামের এক রজকিনীর সাহচর্যে সহজ সাধনা করেছিলেন। এও বলা হয় চণ্ডীদাসের সেই প্রেম নাকি ছিল কামগন্ধ হীন।

ধর্মের নামে সহমরণ।

লেখকদ্বয় আরও লিখেছেন,১৮/১৯ শতকের বঙ্গে ধর্মের দোহাই দিয়ে অনেক অপকর্ম ও নৃশংসতা হ’ত। যার মধ্যে ছিল সতীর সহমরণ, গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন, চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক উৎসবে ভক্ত সন্ন্যাসীদের লোহার হুক দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে ঘোরানো। ফলে ক্লিচ্ছ সাধনের নামে ভক্তের শরীর হ’ত রক্তাক্ত। সেপটিক হয়ে অনেকের মৃত্যুও হ’ত।
আর একটি জঘন্য প্রথা ছিল গুরুপ্রসাদী। হুতোম প্যাঁচার নকশায় বৈষ্ণব তান্ত্রিকদের মধ্যে এই প্রথার বর্ণনা আছে।

শিষ্যের পরিবারের নববধূকে প্রথম কুমারীত্ব হরণের অধিকার ছিল গুরুদেবের।

নববধূকে স্বামীর সঙ্গে সহবাসের আগে কূলগুরুর শয্যাসঙ্গিনী হতে হ’ত। গুরুই তো সাক্ষাৎ ভগবান। এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে ছিল তৎকালীন শিক্ষিত যুবসমাজ। কথিত আছে, একবার নাকি এক তরুণ গুরুর ঘরে খাটের তলায় লুকিয়ে ছিল। গুরু শিষ্যের নব পরিণীতা পুত্রবধূকে গুরু প্রসাদী করতে খাটে ধ্যানে উপবিষ্ট। নব পরিণীতা ভয়ার্ত চোখে ঘরে ঢুকে গুরুকে প্রণাম জানায়। গুরুদেব সস্নেহে তাঁকে আশীর্বাদ করে আলিঙ্গনে মিষ্টি কথায় বলতে বলেন বল, আমি রাধা তুমি শ্যাম। বেচারা বধূ বলতে বাধ্য হ’ল। তখনই খাটের তলায় থেকে যুবক স্বামী লাফিয়ে এসের বলে , আমি রাধা তুমি শ্যাম, এই ঘাড়ে বাড়ি মারিলাম। তারপরেই পেটাতে শুরু করে গুরুদেবকে। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার,১৯ অক্টোবর ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *