পর্ব: ২৬০

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ছান্দোগ্যোপনিষদে’র১/১৩ তে আছে ন কাংচন পরিতরেৎ: এতে পরদার গমনের অনুমোদন আছে। আচার্য শঙ্করের মতে, পরস্ত্রী গমনের নিষেধ বিষয়ক স্মৃতি বামদেব্য সামোপসনা ভিন্ন অন্য স্থলেই প্রযোজ্য।

সহজভাবে সাধনায় কালক্রমে মানুষের বিবেক- বগ্গা শিথিল হয়ে গেল। ফলে অনাচার, ব্যভিচার সমাজের আনাচে -কানাচে প্রবেশ করল। সহজিয়াবাদীদের ভাষায় আবার ‘সাপের মুখেতে ভেকেরে নাচাবি’- এই হলে সহজ সাধনা সিদ্ধ হয়। প্রবৃত্তির জোয়ারে ভেসে গেল নিবৃত্তির বাঁধ। ফলে চণ্ডীদাসের ভাষায় ‘কোটিতে গোটিক’ প্রকৃত সহজ সাধক থাকলেও অধিকাংশ সাধকের হল স্খলন।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ে সহজিয়া মত প্রচলিত ছিল। চর্যাবচর্য বিনিশ্চয় বা চর্যাগীতি বাংলা ভাষায় লিখিত প্রাচীনতম গ্রন্থ এবং সহজিয়া সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন। চর্যাপদে মহাসুখে’র অধিষ্ঠাত্রীরূপে ডোম্বি ও শবরীর উল্লেখ আছে। উল্লেখ আছে অন্যান্যদের মধ্যে ডোম্বীপাদ ও শবরীপাদ নামে দুজন গুরুরও।
মন্ত্র, তন্ত্র, যজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের পরিবর্তে সহজ বা সহজাত প্রবণতার মধ্যে মহাসুখ লাভের পথে এগোনো যায়। এই হল সহজিয়া তন্ত্রের সারমর্ম। (চলবে)
