পর্ব:২২৮

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : শায়েস্তা খাঁ যখন অবসর নিয়ে দিল্লি ফিরে যান সময়টা ছিল ১৬৯৪। সেই বছরেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে অবশ্য মহারাষ্ট্রে শিবাজীর বিরুদ্ধে লড়াই ভি করতে গিয়ে শায়েস্তা খাঁ তাঁর তৃতীয় পুত্র মহম্মদ আজমকে হারান। শায়েস্তা খাঁ শিবাজীর কাছে পরাজিত হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আওরঙ্গজেব তাঁকে বাংলার সুবেদার নিয়োগ করেছিলেন শায়েস্তা খাঁ বেঁচে থাকতেই তাঁর দুকন্যার বি মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে।
এক কন্যা পরীবানু যে আওরঙ্গজেবের বেগম ছিলেন আগেই বলেছি।

বাংলার বিখ্যাত মসলিন।
শায়েস্তা খাঁ-এর আমলে বাংলার বি মসলিন উৎকর্ষতার চরমে পৌঁছয়। প্রায় ২৮ রকমের মসলিন ছিল বাংলার গর্ব। শায়েস্তা খাঁ- এর পরে মসলিন উৎপাদন ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। মগ জলদস্যুদের আক্রমণে ও নৃশংস অত্যাচারে ক্লান্ত বাঙালিদের উদ্ধার শায়েস্তা খাঁ করেছিলেন। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, মগ জলদস্যুরা বাঙালিদের হাত ফুটো করে বেতের দড়ি দিয়ে অনেককে একসাথে নৌকার পাটাতনে লুকিয়ে রাখত।
তারপর কলকাতার ইউরোপীয় বণিকদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত। ভারত তথা বাংলায় বিশ্বের অন্য দেশগুলির মতোই দাস ব্যবসার রমরমা ছিল এ চাণক্যের অর্থশাস্ত্র ও ধর্মশাস্ত্রে দাসপ্রথাকে রীতিমত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এই প্রথা চালু রাখতে নানা বিধান দেওয়া ছিল।

জীমূতবাহন তাঁর আইনি গ্রন্থে দাসদের সঙ্গে কি ব্যবহার করা উচিত তার নির্দেশ লিখেছিলেন
অনেক ঐতিহাসিকেরা বলেন, বাংলায় বাঙালি দাস ছিল না। তবে এই তথ্য অনেক ঐতিহাসিকেরা মানেন নি।১৩ ও ১৩ শতকে আইনজ্ঞ জীমূতবাহন যেসব আইন লিপিবদ্ধ করেন , সেই আইনে বি মালিকদের অধীনে ক্রীতদাসদাসীরা কীভাবে কাজ করবেন তার নির্দেশ আছে। (চলবে)
