শিরোনাম

বাঙালির রাজা ও বহিরাগত তত্ত্ব

সেদিনের চন্দ্রদ্বীপ আজকের বরিশাল।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভুলুয়ার রাজা রামচন্দ্র রায় যখন ভুলুয়া রাজ্যের সীমায় সেনা শিবির স্থাপন করেন রাজা লক্ষণমানিক্য খবর পেতেই পরের দিন ভোর হতেই যুদ্ধ শুরু করেন। লক্ষণ মানিক্যের পরাজয় ঘটে সেই যুদ্ধে। তাঁকে রামচন্দ্র বন্দী করে নিয়ে যান নিজের রাজ্য চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী বাকলায়। বাংলাদেশের ঐতিহাসিকদের বক্তব্য , প্রাচীন যুগে এই বাকলায় বসতি স্থাপন করে বাঙ্গ জাতি। এই দলের নেতা ছিলেন হজরত নূহ ( আ:)- এর প্রপৌত্র। পরবর্তী সময়ে ভেড্ডি, অস্টিক, আলপাইন, মঙ্গোলীয় ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে b মিশে v সংকর জাতিতে পরিণত হয়। সেমেটিক ভাষায় b বংশের আওলাদ। বোঝানো হয়। যা পরবর্তী সময়ে আল উচ্চারণ হয়। যা থেকে বাঙাল। প্রথমে বাংলাবাদ, বাকলা, চন্দ্রদ্বীপ, ইসমাইলপুর, বাখরগঞ্জ ও সবশেষে বরিশাল নামে পরিচিত হয়।

চন্দ্রদ্বীপের রাজা কন্দর্প নারায়ণ রায় ও তাঁর পুত্র রামচন্দ্র রায়।

কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন, যুদ্ধে পরাজিত লক্ষণমানিক্যকে রামচন্দ্র সন্ধির শর্ত দিয়ে নিজের রাজ্যে নিয়ে যান বটে কিন্তু সেখানে লক্ষণমানিক্যকে হত্যা করেন। লক্ষণমানিক্যের মৃত্যুর খবর ভুলুয়াতে পৌঁছলে তাঁর পুত্র অনন্তমানিক্যকে রাজা ঘোষণা করা হয়।বারোয় ভূঁইয়াদের নিজেদের দলাদলিতে সুযোগ বুঝে পর্তুগিজরা প্রভাব বিস্তার করে। রামচন্দ্র বিয়ে করেছিলেন আরেক ভূঁইয়া প্রতাপাদিত্যের কন্যা বিন্দুমতীকে।

যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য।

কারণ প্রতাপাদিত্য বুঝেছিলেন রামচন্দ্র সাহসী ও বীর। এমন মানুষ চাই তাঁর। স্বপ্নের হিন্দুরাজ্য গড়তে এই মানুষটি যোগ্য। কিন্তু রামচন্দ্র নিজের স্বার্থকে গুরুত্তির দিতেন। তাঁর হিন্দু রাজ্য গড়ার কোনো আগ্রহ ছিল না। জামাইয়ের এই নির্লিপ্ত মনোভাবে বেশ ক্ষুণ্ন হয়েই প্রতাপাদিত্য জামাইকেই গ্রেপ্তার করেন। শেষপর্যন্ত স্ত্রী ও শ্যালক কুমারদিত্যের পরিকল্পনায় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী ৩০ মে, শনিবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *