শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব : ২০৭

কাশ্মীরের রাজা অনন্তদেব।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: কাশ্মীরের আর এক কবি ক্ষেমেন্দ্র যখন কাব্যরচনা করছেন তখন কাশ্মীরের রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত রাজা অনন্ত। সময়কাল ১০২৮ থেকে ১০৬৩ খ্রিস্টাব্দ। ক্ষেমেন্দ্র বৈষ্ণব ধর্মে আকৃষ্ট হয়েছিলেন শৈব ধর্ম পরিত্যাগ করে। ধর্মীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের পরিবর্তন জীবিত ক্ষেমেন্দ্রের জীবনে গভীর রেখাপাত করেছিল। ক্ষেমেন্দ্রের লেখনীর উদ্দেশ্য যে সর্বত্র পাঠককে শুধু আনন্দদান তা নয়। তিনি সমাজের গ্লানি থেকে মানুষকে আত্মরক্ষার উপায়ে সম্বন্ধে অনেকক্ষেত্রে সচেতন করতে চেয়েছেন। আটটি অধ্যায়ে লেখা সময়মাতৃকা রচনায় শ্লোক ছন্দে গণিকারা ধনী যুবক সন্তানদের কিভাবে বিপথগামী করে যৌন আকর্ষণে সে বিষয়ে বিশদে লিখেছেন। সময়মাতৃকায় মাতৃকা যিনি গণিকাদের ছলাকলার শিক্ষা দিয়ে পুরুষদের কাছে কিভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে হয় তার শিক্ষা দিতেন। আজকের সমাজে যারা মাসি নামে পরিচিত। ক্ষেমেন্দ্র তাঁর কলাবিন্যাস কাব্যে গণিকাদের ৬৪ কলা সম্পর্কে কতটা কুশলী সেই বর্ণনা আছে।

কাশ্মীরের কবি ক্ষেমেন্দ্র রচিত সময়মাতৃকা।

এই গ্রন্থে কানকালি নামে এক গণিকার কথা উল্লেখিত হয়েছে যে জীবনের চলার পথে অস্তিত্ব বজায় রাখতে কি কি কৌশল অবলম্বন করে তার বর্ণনা। বয়সকালে কলাবতী নামে এক যুবতী গণিকাকে দত্তক নিয়ে মাতৃত্বের ইচ্ছা পূরণ করেছে। এই গ্রন্থে এমন কিছু দেবদাসীর কথা আছে যারা মূলত গণিকাই ছিল। কলহনের রাজতরঙ্গিণী গণিকা বা যৌনধর্মী গ্রন্থ না হলেও এতেও রয়েছে গণিকাদের সম্পর্কে বহু তথ্য।

প্রাচীন যুগে কাশ্মীরের গণিকা।

এই গ্রন্থেই আছে রাজা হর্ষের সভাকক্ষে গণিকাদের প্রবেশ ছিল অবাধ। রাজা জয়াপীড় পুণ্ড্রবর্ধন -এর কার্তিক মন্দিরে ভ্রমণকালে কমলা নামেএক নৃত্যারতা এক নর্তকীরআমন্ত্রণে তার বাড়িতে যান। আর এক রাজা ললিতপীড় দিনের বেশি সময়ই গণিকাদের বাহুডোরে বাঁধা থাকতেন। খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে ক্রমশ গণিকাদের মান সম্মান , পদমর্যাদা কমতে থাকে।

ভারতে প্রাচীন যুগে যৌনতা রক্ষনশীল ছিল না।

সমাজে সভ্যতার বিকাশে যৌনতা ইউরোপিয়ান দেশে স্বাভাবিক হলেও আমাদের দেশে রক্ষণশীলতার আড়ালে আবডালে রাখার একটা প্রবণতা কাজ করে। এই রক্ষণশীলতা আবার বিকৃত কামনারও জন্ম দেয়। আমাদের দেশে যৌনতা সহজসাধ্য না হওয়ায় পুরুষ যেমন ধর্ষণে সেই যৌন স্পিহা পূরণ করে আবার বিদেশে নারী যৌনসঙ্গী হিসেবে যতটা নয় ভোগীর বস্তু হিসেবেই দেখারও প্রবণতা কাজ করে। এই সম্পর্কে ডা: ধীরেন্দ্রনাথ নন্দীর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল স্বদেশচর্চা লোক পত্রিকার ২০১৬ শারদ সংখ্যায়। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ,১৭ এপ্রিল ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *