শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব : ২০৬

আজও কাশ্মীরে অষ্টম-নবম শতাব্দীর সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আছে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতের যৌন সংস্কৃতির আলোচনায় কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। স্বদেশচর্চা লোক পত্রিকার ২০১৬ শারদ সংখ্যায় শুভ্রদীপ দে এবং সুস্মিতা দে ( ভৌমিক) কাশ্মীর : তিনকবি ও বারাঙ্গনাবৃত্তি নিবন্ধে ২০৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন- সমগ্র কাশ্মীর উপতক্যাটিই হল একটি ‘সৌন্দর্য নিকেতন’ বিশেষ। কাশ্মীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ কেবলমাত্র অতীব সুন্দরই নয়, বিস্ময়করও বটে। এখানকার প্রকৃতির বিশালতা ও সমারোহ দর্শকমাত্রকে মুগ্ধ করে দেয়। একারণে কাশ্মীরকে ভূ- স্বর্গও বলা হয়।

কাশ্মীরের কবি ও অষ্টম শতাব্দীর রাজার মন্ত্রী দামোদরগুপ্তের কুট্টনীমতম গ্রন্থে সেযুগের গণিকাদের বর্ণনা আছে।

লেখকদ্বয় লিখেছেন, সুতরাং এখানে সুপ্রাচীনকাল থেকে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ে উঠবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। অধিকন্তু এখানে যে যুগে যুগেই বহু কবিবরদেরও উদ্ভব ঘটেছে তাতেও আশ্চর্য হওয়ার কোনও কারণ নেই।,,,,,,, কাশ্মীরের অধিবাসী দামোদর গুপ্তের কুট্টনীমতম দিয়ে কাশ্মীরের সাহিত্যের গণিকা বিষয়ক রচনার সূত্রপাত হয়েছিল। পরবর্তীকালে e বিষয়ে কবিবর ক্ষেমেন্দ্রও বহু গ্রন্থ রচনা করেন। দামোদরগুপ্ত ছিলেন কাশ্মীররাজ জয়াপীড়ের সভাকবি ও মন্ত্রী।; কলহনের ‘রাজতরঙ্গিণী’তেও তাঁর উল্লেখ করা হয়েছে মন্ত্রী ও কবি হিসেবে। পরবর্তী সমালোচকরাও তাঁর রচনা থেকে বহু শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন।

একাদশ শতাব্দীর কাশ্মীরের কবি, ইতিহাসবিদ ক্ষেমেন্দ্র।

কুট্টনীমতম নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে কুট্টিনীর পেশা সম্পর্কে আলোচনাই এ গ্রন্থের মুখ্য প্রতিপাদ্য বিষয়। গ্রন্থের বিষয় হল গণিকার পেশায় v নবাগতা কোনও অজ্ঞ তরুণীকে b তার এই ব্যবসায়ের ছলাকলায় দক্ষ করে তোলা। বিষয়ের প্রতি রচয়িতার সম্পূর্ণ তিক্তকষায় দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।, অধিকাংশ উপদেশেরই প্রতিপাদ্য এই যে, ছলনা , মিথ্যা ও প্রতারণার সাহায্যে তরুণীকে নিশ্চিত হতে হবে যে গ্রাহক তাকে প্রতারণা করছের না। এ গ্রন্থে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে v, কেমন করে গণিকা সর্বাধিক পণ আদায় করে নেবে , কখন, কেমনভাবে পুরুষকে ছেড়ে যাবে ইত্যাদি। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব ১৩ এপ্রিল, সোমবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *