শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব: ২০৪

বৈদিক যুগে গণিকা।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : এই পর্বে সরাসরি বৈদিক যুগের গণিকাগমন সম্পর্কে আলোচনা করব। সাহায্য নিয়েছি স্বদেশচর্চা লোক শারদ সংখ্যা ২০১৬ তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে।২০৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত শুভ্রদীপ দে ও সুস্মিতা দে ( ভৌমিক) লিখিত কাশ্মীর : তিন কবি ও বারাঙ্গনাবৃত্তি প্রতিবেদনে লেখকদ্বয় লিখেছেন,,,,,,,, গণিকা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গণ শব্দটি থেকে। গণিকা বলতে মূলত বারোয়ারিকে বোঝানো হয়, যিনি অর্থের বিনিময়ে পুরুষের কামনা- বাসনা চরিতার্থ করে থাকেন। গণিকাবৃত্তির সঙ্গে যৌনতা এবং ভোগবাদ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এবং এর উৎপত্তি হয়েছিল অতি সুপ্রাচীনকাল থেকেই হরপ্পা সভ্যতার সময়কালে প্রাপ্ত একটি ব্রোঞ্জ নির্মিত নর্তকী মূর্তি থেকে মনে হয় হয়তো সেই যুগেই এই পেশার উপস্থিতি ছিল।

মহাভারতে বহু গণিকা চরিত্রের বর্ণনা আছে।

হরপ্পার পাশাপাশি পৃথিবীরঅন্যান্য সভ্যতাতেও এই আদিম পেশার v সন্ধান পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য ২৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাদ্বে মিশরে গণিকাদের সামাজিক স্বীকৃতি ছিল এবং ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দেখা যায় তারা পুরুষের কামনা -বাসনা চরিতার্থ করতে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। প্রাচীন মহাভারতের গণিকাদের অবস্থান নির্ণয় করতে গিয়ে বলা যায় যে ঋকবৈদিক যুগে ধর্ম ও ঈশ্বরের প্রতিদেহ সমর্পণের ধারণা পরবর্তী বৈদিক যুগে তা আরও দৃঢ় হয়েছিল। বৈদিক যুগে গণিকদের সর্বপ্রথম পাওয়া যায় ঋগবেদে। এছাড়াও অথর্ববেদ ও অন্যান্য বৈদিক বৈদিক সংহিতাগুলিতেও গণিকাবাচক কিছু শব্দ যেমন পুংশ্চলী, সাধারণী, সামান্যাইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে।

পালি বিনয়পিটকে গণিকার অস্তিত্ব উল্লেখিত আছে।

লেখকদ্বয় লিখেছেন, বৈদিক যুগ থেকেই গণিকার দেখা পাওয়া যেত সাহিত্যে ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্যকীর্তি ঋগবেদে গণিকাবাচক বেশ কয়েকটি শব্দ পাওয়া যায়। যেমন হস্রা , সাধারণী। অথর্ববেদে আছে পুংশ্চলী । পালি বিনয়পিটকে একটি শব্দ পাওয়া যায় – মুহুত্তিয়া ( সংস্কৃত মুহূর্তিকা) যে ক্ষণকালের সঙ্গিনী। জাতকে পাই রূপদাসী, নগরশোভিনী, জনপদ কল্যাণী। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব : আগামী সোমবার ৬ এপ্রিল,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *