পর্ব:২৬৩

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বাংলার সেন রাজারা ছিলেন শৈব। দক্ষিণ ভারত থেকে আগত। পরবর্তী সময়ে বৈষ্ণব মতে দীক্ষিত হন। বলতে গেলে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের কট্টর অনুসারী। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জন্য উঠেপড়ে লাগেন। যে ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে একদিন বৌদ্ধ মতবাদ ম্লান করের দিয়েছিল , সেই বৌদ্ধ মতবাদ রাজশক্তির চাপে ক্রমশ অস্তিত্বের সংকটে পড়তে থাকল।

গুপ্ত ও পাল রাজাদের আমল থেকেই বাংলায় লৌকিক ধর্ম গ্রাস করতে শুরু করে উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে আগত পুরোহিত তন্ত্র।
ব্রাহ্মণ্য ধর্মের উচ্চবর্ণের নিপীড়নের কারণে সমাজের নীচুতলার ভূমিপুত্র মানুষ কিছু যেমন বৌদ্ধ ধর্মে আশ্রয় নেন তেমন কিছু মুসলিম ধর্মে আস্থা রাখেন। মূলত বাংলায় পাল রাজাদের আমলে বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশ ঘটে। সময়টা ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১৫৯ পর্যন্ত। একটা সময় সহজিয়াবাদের প্রভাবে তান্ত্রিক রীতিনীতির আড়ালে ব্ল্যাক ম্যাজিক অবলম্বন করে সাধারণ মানুষকে ঐশ্বরিক ক্ষমতায় ভীতি তৈরি করে পুরোহিত তন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় । সেই তন্ত্রের ধারায় বৌদ্ধ ধর্মেও অনাচার ঢুকে পড়ে।

ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পুরোহিত তন্ত্রের আগ্রাসনে বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্ম ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।
ফলে বৌদ্ধ মত ছেড়ে নিপীড়িত বাংলার ভূমিপুত্র মানুষ মুসলিম ধর্মে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ পান।পাশপাশি লৌকিক ধম্মপূজাও ব্যাপ্তি লাভ করে। বলা যায় বৌদ্ধ ধর্মের শ্মশানে সলতের মত থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অস্তিত্ব রক্ষা করে। কালের স্রোতে সেই ধম্ম ঠাকুর ব্রাহ্মণ্যবাদের ফাঁদে তান্ত্রিক আচারে হিন্দুত্বে বদলে যায়। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্ম সমাজের নিচুতলার ভূমিপুত্র মানুষকে গ্রাস করে নেয়। (চলবে)
