পর্ব: ১৯৩

মৈত্রায়ণী সংহিতা বৈদিক শাস্ত্রে উচ্চারিত হয়েছে নারী ভোগ্যবস্তু।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: প্রাচীন ভারতে নারী গ্রন্থে সুকুমারী ভট্টাচার্য লিখেছেন, বারবার বলা হয়েছে যে নারীর সভায় যাবার অধিকার নেই। [মৈত্রায়ণী সংহিতা ৪/৭/৪]; কোনো শিক্ষা পাওয়ার, ধন অর্জন বাস্বাধীনভাবে ভোগ করার , এমনকি নিজের দেহটিকেও অবাঞ্ছিত সম্ভোগ থেকে রক্ষা করবার ও অধিকার তার নেই মৈত্রয়ণী সংহিতা ৩/৬/৩;৪/৬/৭;৪/৭৪/;
১০/১০/১১; তৈত্তিরীয় সংহিতা ৬/৫/৮/২] তার ছেলেমেয়েদের সামনেই তার স্বামী একাধিক পত্নী, উপপত্নী এসে অথবা গণিকাগমন করে তাকে অসম্মান করলে নিষ্পত্তিবাদে তাকে তা সহ্য করতে হবে, অথচ তার সামান্যতম পদস্খলনে কঠোরভাবে দণ্ড দেবে। আপস্তম্ব [ ধর্মসূত্র ২৩/৪] ও হিরণ্যকেশী [ গুহ্যসূত্র ১/৪/১৪/২] ব্যভিচারিণী নারীর যে দণ্ডের বিধান দিয়েছেন তা যেমন নিষ্ঠুর তেমনই ঘৃণ্য; উচ্চারণ করতেও জুগুষ্পা বোধ হয়।

ব্রাহ্মণ পুরোহিত বিবাহিতা নারীকে বৈদিক যুগের প্রশ্ন করত বিয়ের আগে সে অন্য পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হয়েছে কি না।
সুকুমারী ভট্টাচার্য লিখেছেন, তাহলে বৈদিক ভারত কী চোখে দেখেছিল নারীকে? নারী অশুচি, স্বভাবত পাপিষ্ঠা ও অমঙ্গলের হেতু। চাতুমার্স্যের অন্তর্গত বরুণপ্রবাস যজ্ঞের প্রকাশ্য জনবহুল প্রতিপন্থাতা পুরোহিত যজমানপত্নীকে ( যজমান নয় কিন্তু) প্রশ্ন করতেন , কেন সহ চরসি।[ তৈত্তিরীয় সংহিতা ২/৫/২/২০] অর্থাৎ কার সঙ্গে ব্যভিচারিণী হয়েছ? এ প্রকাশ্য অপমান সহ্য করে তাকে উত্তর দিতে হত; নইলে যজ্ঞ নষ্ট হবে যে। মৈত্রায়ণী সংহিতা উচ্চারণ করেই বলেছে নারী অশুভ।[৩/৮/৩, তৈত্তিরীয় সংহিতাতেও একই কথা ৬/৫৮/২] বলা হয়েছে, যজ্ঞকালে কুকুর শূদ্র ও নারীর দিকে তাকাবে না m[ শতপথ ব্রাহ্মণ ৩/২৪/৬] এসব উক্তি এমনই স্পষ্ট যে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার কোনো অবকাশই নেই।

তৈত্তিরীয় সংহিতা শাস্ত্রে নারী ভোগ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
নারীর সর্বপ্রধান সংজ্ঞা দুটি, তার স্থানও ঐ দুটিতেই সীমাবদ্ধ; সে পুত্রের জননী এবং v সে ভোগ্যবস্তু। তৈত্তিরীয় সংহিতাতেই শুনি v, তস্মাদু হ স্ত্রীয়ো ভোগমেব হারয়ন্তে, অতএব নারী সম্ভোগ আনে।[২/৩১০/৭], এটির রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতক v, তার মানে প্রায় তিন হাজার বছর ধরে ভারতবর্ষ নারীকে ভোগ্যবস্তু রূপে দেখছে। পরবর্তীকালের গৌতম ধর্মসূত্রে পড়ি, পশুভূমিস্ত্রীণামনতিভোগ:,[১২/৩৯], পশু, ভূমি ও নারীর অধিক ভোগ নয়। নারীর ভোগ্যরূপ বারবার উল্লেখ করেছেন শাস্ত্রকাররা অকুন্ঠভাবে। নির্লজ্জভাবে। তাই নারী দক্ষিণার তালিকায় স্থান পায়। (চলবে)
পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি,২০২৬

