পর্ব: ১৮৫

মধ্যযুগে গ্রীক নারী
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : মধ্যযুগে গ্রীসে নারীর বাস্তব অধিকার কতটা তার স্পষ্ট ছবি ফুটে ওঠে আনোয়ার হোসেনই মঞ্জু অনূদিত প্রাচীন গ্রীসে প্রেম ও যৌনজীবন গ্রন্থে । মূল রচনা গ্রীক ঐতিহাসিক নিকোলাওস এ ভ্রিসিমটজিস। অনুবাদক তাঁর গ্রন্থে ২০ পৃষ্ঠায় নারীর সামাজিক অবস্থান শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন,, মহিলাদের ডিমোস অথবা ফ্রাত্রিয়া এর সরকারি তালিকায় রাখা হতো না। নিষ্ক্রিয় এই নাগরিক অধিকার বলতে যা ছিল বিয়ের বৈধ চুক্তিতে সম্মত হওয়া ও বৈধ উত্তরাধিকারী সন্তানের জন্ম দেওয়া। অবশ্য পুত্র সন্তান না হলে সম্পত্তির অধিকার পেত। তবে সেই সম্পত্তি নিজের ইচ্ছে মত ভোগ করা, ব্যবস্থাপনা করা বা বিক্রয় করার অধিকার বর্তাত না।

গ্রীসে হেলিনীয় যুগের শেষে মেয়েদের শিক্ষালয়ে যাওয়ার অধিকার মেলে।
ফলে প্রয়াত স্বামীর কোনো নিকট আত্মীয়কে পুনরায় বিয়ে করতে হতো। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ছিল না। মেয়েরা মায়ের কাছে বা পরিবারের কোনো নারী সদস্যের কাছে ঘরকন্না বা শিক্ষার প্রাথমিক ধারনা তৈরি করত। তবে হেলেনীয় যুগের শেষে ( খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩-৩০ সাল) থেকে পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার অধিকার পায়।

মধ্যযুগে গ্রীসে পরিবারের মেয়েদের থাকার জায়গা ছিল বাড়ির চিলেকোঠার ঘরে। এই ঘরটিকে বলা হত গাইনেকোটনিস।
একমাত্র ধর্মীয়, পারিবারিক সমাবেশে কিম্বা ব্যক্তিগত কেনাকাটা করার জন্য শুধু মেয়েদের প্রকাশ্যে রাস্তায় বেরোনোর অনুমতি ছিল। অন্যক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষ সদস্যের বা ক্রীতদাসীর উপস্থিতি অনুমোদন ছিল। এমনকি বাসস্থানে তাদের নির্দিষ্ট কামরায় থাকতে হতো। বাড়ির ওপর অংশে এই স্থানের নাম ছিল গাইনেকোটিনিস। এই ব্যবস্থা ছিল পরিবারের ঐতিহ্য। (চলবে)

