বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব : ১৮০

নারীর সমকামিতা বহুযুগ আগে থেকে প্রচলিত ছিল।

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : সমকাম যে শুধু ছেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এমনটা নয়। এই সম্পর্কে তথ্যসমৃদ্ধ বিভিন্ন লেখকের লেখার একটি সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন সানন্দা সেন এবং পিয়ালী হালদার। গ্রন্থটির নাম প্রসঙ্গ নারী সমকামী একটি পাঠ। এই গ্রন্থের প্রথম নিবন্ধের লেখক অর্ণব সাহা। লেখক ফুকো ও বাটলার তত্ত্বে দ্য আদার- লেসবিয়ানিজম ও কুইয়ার শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন, ফেমিনিস্ট আইডিওলজির ধারায় লেসবিয়ান ফেমিনিজম একটি সদর্থক, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন , যা মেয়েদের শরীর ও অস্তিত্বের মুক্তির নিরিখে একটি কাউন্টার- কালচার -এর জন্ম দেয়। আত্মপরিচিতি, যৌনতা এবং গোষ্ঠী হিসেবে লেসবিয়ান ফেমিনিস্ট-রা নিজেদের জাহির করেন। পাশ্চাত্যের ‘সেকেন্ড ওয়েভ ফেমিনিজম’ সম্পর্কে নিজেদে অসন্তুষ্টি থেকেই এর জন্ম , এঁরা মনে করতেন, নিজেদের যৌনপরিচিতি এবং যৌনচাহিদার সঠিক ব্যাখ্যা ওই দ্বিতীয় পর্যায়ের নারীবাদের কাছে নেই।

মার্থা শেলি বলেছেন নারীর সমকামিতা পুরুষ বা নারী স্বীকৃতি দেয় না

লেখক লিখেছেন, নোটস অন অ্যা র‍্যাডিক্যাল লেসবিয়ানিজম বইতে মার্থা শেলি বলেছেন, হেটেরোসেক্স্যুয়াল নারী- পুরুষদের কাছ থেকে তারা সর্বদাই অবহেলা ও উপেক্ষা সহ্য করে। বিশেষত পুরুষ আধিপত্য এবং কর্তৃত্বের কাছে লেসবিয়ান আইডেন্টিটি আতঙ্কের। একই সঙ্গে হেটেরোসেক্স্যুয়াল নারীদের কাছে লেসবিয়ান নারীরা বিরক্তির কারণ,যেহেতু তাঁরা মনে করেন , এই নারীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছেন। লেসবিয়ান ফেমিনিস্টরা নিজেদের ‘বিশুদ্ধ নারীবাদী ‘ বলে দাবি করেন কারণ , তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য পরিসর থেকে পুরুষকে সম্পূর্ণ বর্জন করতে চান।

জুডিথ বাটলার লিখেছেন, লিঙ্গ সামাজিক নির্মাণ ও যৌনতা শারীরিক পৌরুষ।

তাঁদের মতে, পুরুষ সর্বদাই নতজানু আত্মসমর্পণকারী নারীদের কামনা করে, যাতে হেটেরোর পিতৃতান্ত্রিকতা চিরস্থায়ী হয়। এখানেই জুডিথ বাটলারের বক্তব্যের গুরুত্ব। তিনি লিঙ্গ / যৌনতার যে ফারাক করেছেন , সেখানে দেখিয়েছেন লিঙ্গ হল সামাজিক নির্মাণ এবং যৌনতা শারীরিক পৌরুষ। এবং নারীত্ব -র ধারণা দুটোই লেসবিয়ান ফেমিনিজমে এসে নতুন করে মাধ্যমায়িত হয়। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব , আগামী সোমবার ১২ জানুয়ারি,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *