বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:১৭৮

ডেমোস্থেনিস

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: গ্রীক দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ ডেমোস্থেনিস সলোনের আর এক আইনের উল্লেখ করে লিখে গেছেন, কেউ যদি কোন বালক , মহিলা বা পুরুষের ওপর জবরদস্তি করে, তারা স্বাধীন বা দাস যাই হোক না কেন অথবা উপরোক্তদের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করে তাহলে যেকোন এথেনীয় তাদের আইনপ্রণেতাদের কাছে তুলে দিতে পর্বের। অভিযোগের দিবস থেকে পরবর্তী ত্রিশ দিবসের মধ্যে বিচারকরা মামলাটি গঠন করে ইলিয়ায়া’য় ( সর্বোচ্চ আদালত) পেশ করবে। বিচারকার্য দ্রুত শুরু হতো।বিচারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দ্রুত কারাগারে পাঠানো হতো নয়ত জরিমানার ধার্য হতো । এমনই উল্লেখ করেছেন আনোয়ার হোসেনই মঞ্জু তাঁর অনূদিত প্রাচীন গ্রীসে প্রেম ও যৌন জীবন গ্রন্থে। মূল রচয়িতা নিকোলাওস এ ভ্রিসিমটজিস।

স্পার্টার লাইকারগাস ছিলেন আইনি উপদেষ্টা।

অনুবাদক আরও লিখেছেন, সমকামীদের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখতে হবে এমনই ব্যবস্থা ছিল সেইযুগে। স্পার্টায় লাইকারগাসের বিধিবদ্ধ আইনে সমকাম বা পায়ুমৈথুন ছিল নিষিদ্ধ। যদি দেখা যেত কোন ব্যক্তি শিশু বা কিশোরদের দেহের প্রতি আকৃষ্ট , যা ছিল লাইকারগাসের দৃষ্টিতে যাছিল নোংরা। আইনে এও বলা হয়েছে পুরুষদের উচিত তাদের সাথে সম্পর্কে স্থাপন থেকে বিরত থাকা, ঠিক পিতামাতা যেমন তাদের সন্তানদের সাথে এবং তাদের ভাইদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকতে বলা হতো।

গ্রীক বুদ্ধিজীবীমহলের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন প্লুটার্ক।

আরেক গ্রীক দার্শনিক প্লুটার্ক বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে লিখে গেছেন, কেউ কোন বালকের দিকে নজর দিচ্ছে এমন অভিযোগ এলে, বিশেষ করে জড়িত প্রমানিত হয়, উদ্দেশ্য মন্দ , সেহেতু তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। স্পার্টা সম্পর্কে এলিয়ানের আর এক মন্তব্য ছিল স্পার্টার প্রেমের সঙ্গে নোংরামির কোন সংশ্রব নেই। কোন যুবক যদি তার বিরুদ্ধে নোংরামির জন্য কারো প্রতি অভিযোগ জানায় সেই ব্যাপারেও কঠোর দৃষ্টি রাখা হতো। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কারাবাসের নির্দেশে যেমন ছিল,অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে আইনি সিদ্ধান্তে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ বলবৎও হতো। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ৫ জানুয়ারি, সোমবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *