
*****
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতে ক্রমাগত বাড়ছে অস্থিজনিত সমস্যা। এটি কোনো রোগ নয়। বয়সজনিত কারণে হাড় ক্ষয়, আঘাতজনিত কারণে হাড় ক্ষয় বা অল্পবয়স্কদের পুষ্টিজনিত ঘাটতির জন্য দ্রুত দেহের অস্থি সংযোগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অন্যতম সমস্যা হাঁটু ও কোমর। একটি অবস্থার পর আধুনিক চিকিৎসায় অপারেশন ছাড়া গতি থাকে না। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরকারি বা বেসরকারি পরিকাঠামো অভাব থাকায় রোগীদের কলকাতায় ছুটে আসতে হয়। অস্থিজনিত অপারেশনে খরচ আছে। এখন রোবটিক সার্জারিতে হাসপাতালে থাকার খরচ কমলেও অপারেশন খরচ বেড়েছে।

২০২৪ এ গ্রামীণ মানুষের স্বার্থে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হুগলির চাপাডাঙায় গড়ে তোলা হয় টেরিজা হাসপাতাল। সর্বাধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জামসমৃদ্ধ এই হাসপাতালে পি এম রিলিফ ফান্ড, সি এম রিলিফ ফান্ড এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মধ্য দিয়ে মুস্কিল আসান করা হয়। রবিবার সকালে হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ওয়াক্থন। উপস্থিত ছিলেন অস্থি শল্য চিকিৎসক অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আধিকারিকেরা। চিকিৎসক অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিত জানান, হাঁটু সমস্যা শুরু হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়। অনেকক্ষেত্রে বিনা অপারেশনে সমস্যা মেটে। কিন্তু নানারকম বিকল্প চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে মানুষ যখন আসেন তখন অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় অপারেশন ছাড়া পথ থাকে না। তবে অপারেশনের খরচ সামলাতে সরকারি অনুদান পাইয়ে দেওয়ার সহযোগিতা করা হয়। শুধু অর্থের সামর্থ কম থাকায় কোনো মানুষকে বঞ্চিত করা হয় না। অপারেশনের আগে ও পরে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে দ্রুত মানুষ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন দ্রুত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশকিছু হাঁটু ও কোমর অপারেশনে সুস্থ মানুষেরা টেরেজা হাসপাতাল ও চিকিৎসক অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিতের সুখ্যাতি করেন মুক্তকন্ঠে। গ্রামীণ বাংলার চিকিৎসায় টেরিজা হাসপাতাল ও চিকিৎসক অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিতের নাম এখন হুগলি জেলা জুড়ে।
