মরুধর মেলায় সল্টলেকে এক টুকরো রাজস্থান হাজির করল মারোয়ারি সংস্কৃতি মঞ্চ

*******

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৮ এ কথা কাব্যগ্রন্থে রাজস্থান সংস্কৃতির হোলি খেলা নিয়ে তাঁর হোরি খেলার কবিতায় লিখেছিলেন , রঙিন দেখে পাগড়ির পরে মাথে, সূর্মা অঙ্কিত দিল আঁখির পাতে, গন্ধভরারুমাল নিল হাতে- সহস্রবার দাড়ি দিল ঝাড়া।পাঠান সাথে হোরিখেলবার রাণী, কেসর হাসি গোঁফে দিল চাড়া। রাজপুত ঘরানার সংস্কৃতির প্রতি এই ছিল রবীন্দ্রনাথের শ্রদ্ধার্ঘ্য।

ইতিহাস বলছে, কলকাতা তথা বাংলায় রাজস্থাননিবাসীদের আগমন বাণিজ্যের কারণে সেই মোঘল আমলে। কলকাতায় বাঙালি বসতি স্থাপন করলেও সংখ্যাধিক্যে একসময় পর্যন্ত মারওয়ারি সমাজ ছিল এগিয়ে। এই মুহূর্তে ১৩ বছর ধরে মারওয়ারি সমাজের নতুন প্রজন্ম ও বাঙালিদের কাছে রাজস্থান সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে মরুধর মেলা আয়োজন করে সল্টলেকে মেলা গ্রাউন্ডে একটি টুকরো রাজস্থান হাজির করা হলো ।
রাজস্থান কেল্লার আকারে তৈরি মেলা তোরণ পেরিয়ে দেখা মিলল বলদের টানা গাড়ি, মরু জাহাজ উট। রাজকীয় ঘরের চোরারু উন্মাদনার।আরেকটি প্রান্তের রাজস্থানী পুতুল নাচ। কৃত্রিম মরুভূমিতে রাজস্থানী লোকনৃত্য।আরেকটি প্রান্তের হাত ঘুরিয়ে মাখন তৈরিতে ব্যস্ত রাজস্থানী রমণী। পাশেই মাটিতে উনুনের বাজরার রুটি সেঁকছেন আরেক রাজস্থানী রমণী।
উত্তরপ্রান্তের এক মন্দিরে রাজস্থানী দেবতার মূর্তির সামনে পুরোহিতের মন্ত্রচ্চারণ।

মূল সাংস্কৃতিক মঞ্চে নাচগানের আসরে ভিড় জমিয়েছেন প্রবাসী মারোয়ারীর সমাজের আট থেকে আসি দর্শকদের ভিড়। আসরে উপস্থিত আই আই এম ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বাইয়ের এন এস আরসিইএল পরিবেশন করে শ্রেষ্ঠ গাঙ্গুলির নেতৃত্বের। বিশেষত আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় অভিরূপ সেনগুপ্ত তাঁর সম্প্রদায় নিবেদন করলেন রাজস্থানী নৃত্য ও বন্দেমাতরম।

আয়োজকদের পক্ষেই বিকাশ পোদ্দার জানালেন, তেরো বছর ধরে মরুধর মেলা কলকাতায় সাড়া জাগিয়ে আসছে। প্রবাসী রাজস্থানের মানুষ নাগালের মধ্যে একটুকরো রাজস্থান আর টার্ট সংস্কৃতি উপভোগ করছেন এটাই আমাদের তৃপ্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *