
**************
দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : সভ্যতার সেই আদিম যুগে শামুকের খোল, পাথর, ফলের বীজ বা শিকার করা প্রাণীর হাড় অথবা পাখির পালক কিম্বা ঠোঁট ছিল নারী পুরুষের আভরণ। তখনও যা গয়নার মর্যাদা পায়নি। প্রস্তর যুগ পেরিয়ে ধাতু আবিষ্কারের পরই গয়না শব্দের স্বীকৃতি। আভরণ যা ছিল গোষ্ঠী চেনার উপায়, সেই গয়না হয়ে উঠল রূপ সংস্কৃতির উপাদান। সে অর্থে ভারতের সিন্ধু সভ্যতাই সোনা, রূপা বা হীরের গয়নার প্রথম আবিষ্কর্তা। সেই অলংকার ছিল নারী পুরুষের অহংকার।বিশেষ করে নারীমহলে। শিক্ষাবিদ , সমাজসংস্কারক বেগম রোকেয়া এক নব বিবাহিতা বধূর বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছিলেন, মাথায় সিঁথির অলংকার ৪০ ভরি, কর্ণে ২৫ ভরি, কন্ঠে ১২০ তোলা, সুকোমল বাহুলতায় প্রায় ২ সের, কটি দেশে ৬৫ ভরি , চরণযুগলে ২৪০ ভরি স্বর্ণের বোঝা। এই বোঝা শব্দ কি অর্থে রোকেয়া ব্যবহার করেছিলেন সেটা না হয় উহ্য থাক।

গয়না নিয়ে নারীর স্বভাবজাত দুর্বলতা কতটা তার প্রমাণ তো রবীন্দ্রনাথের মণিমালা গল্প। তিনি দেখিয়েছেন মৃত্যুর পরও নারীর অলংকার বাসনা কতটা তীব্র হতে পারে। বাঙালির সোনার গয়নার ব্যবসার যেমন প্রাচীন ঐতিহ্য , তেমন বাঙালির গয়নার কারিগর শিল্পীদের জগৎজোড়া খ্যাতি। দেশভাগের আগাম আঁচ করে যশোরের এক সরকার পরিবার কলকাতায় এসে সোনার গয়নার দোকান খোলে। পারিবারিক ঐতিহ্যের নিরিখে এই সরকার পরিবারের ব্যবসার প্রতিষ্ঠা ১৮৮৪ সালে। পিতা বিশ্বেশ্বর সরকারের স্মৃতিতে কলকাতার বৌবাজারে প্রথম দোকান হাজারিলাল ও মন্মথভূষণ সরকারের। ইতিহাসের কাল পেরিয়ে সেই দোকান এখন বি সরকার জহুরী দোকান নামে খ্যাত। এহেন কৃতিত্বের অধিকারী উত্তরপুরুষ প্রয়াত বীরেশ্বর সরকার একাধারে ব্যবসায়ী ও সুরের সাধক যেমন উপহার দিয়েছেন অলঙ্কারের আকর্ষণীয় নকশা, তেমন সপ্তসুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে প্রযোজনা করেছেন সোনার খাঁচা , মাদার ছবি। সঙ্গে সুরের মূর্ছনায় হিট গান কে জানে ক ঘণ্টা, বৃষ্টি বৃষ্টি , আমার নাম এন্টনি, কি দারুন দেখতে,,,,, গানের সুরকার। লতা মঙ্গেশকরের মত শিল্পীযাঁর সুরের প্রশংসা করেছেন মুক্তকন্ঠে।সেই ট্র্যাডিশন সমানের চলছে বর্তমান প্রজন্মের দম্পতি জয়দীপ সরকার ও শ্রী সরকারের সৌজন্যে।,

মঙ্গলসন্ধায় দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত টলি ক্লাবে বিপণির অন্যতম কর্ণধার শ্রী সরকার প্রতিবারের মত আয়োজন করলেন কলকাতার অগ্রণী মডেলদের নিয়ে এক র্যাম্প শো। সঙ্গে বাছাই গ্রাহক ললনাদের নিয়ে ক্যালেন্ডার প্রকাশ। ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলেন প্রাক্তন সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহান । বাংলার ১২ টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হিসেবে বিশ্ববাজারে বাংলার গয়নার কৃষ্টি বিদেশের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বের অধিকারী বি সরকার জহুরীর অন্যতম কর্ণধার জয়দীপ সরকার জানালেন, যে নারী রাঁধে সে নারী চুলও বাঁধে প্রবাদকে পূর্ণতা দিয়ে রূপের দুনিয়ায় আভরণকে এক উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ায় বি সরকার জহুরী এক আলাদা ঐতিহ্য বহন করছে। গয়নার মান ও নকশার বৈশিষ্ট্যে আমাদের কলকাতার বৌবাজার , এলগিন রোড শাখা ছাড়াও বাংলার বিভিন্ন জেলায় জনপ্রিয়তায় এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রায় ১২ জন নারী পুরুষ কলকাতার সেরা মডেলের পদচারণায় মুখ্য আকর্ষণ ছিল শিল্পগুণে সমৃদ্ধ অলঙ্কারের এক আকর্ষণীয় প্রকাশ।
