রবীন্দ্র সরোবর সাফারি পার্কে ৩ থেকে ৫ জানুয়ারি বাংলার গোলাপ প্রদর্শনী

******

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : পূজা পর্যায়ের কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,, গোলাপ তুলিয়া পর লো মাথায়, সাঁঝের গগনে ফুটিবে তারায়। আমার সকল কাঁটা ধন্য করে ফুটবে গো ফুল ফুটবে। আমার সকল ব্যথা রঙিন হয়ে গোলাপ হয়ে উঠবে। রবিকবির কাছে গোলাপ শুধু ফুল নয়, জীবনের প্রেম , সৌন্দর্য, দুঃখ বিরহের এক গভীর অনুভূতির প্রতিচ্ছবি ছিল। উত্তমকুমার একবার এক জনপ্রিয় গানে লিপ দিয়েছিলেন। ‘তবে কেন পায় না বিচার, নিহত গোলাপ। বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে নেওয়া নিহত গোলাপ…..।বৃন্ত থেকে ছিড়ে নেওয়া তো পরের কথা ,সযত্নে বাংলার গোলাপপ্রেমী মানুষ হরেক রঙের, হরেক জাতের গোলাপ ফুটিয়ে চলেছেন অপেশাদার এক আবেগ থেকে।

৩ থেকে ৫ জানুয়ারি তিনদিনব্যাপী ৪২ তম ইন্ডিয়ান রোজ কনভেনশন ও অল ইন্ডিয়া রোজ শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্যোক্তা বেঙ্গল রোজ সোসাইটি এবং ইন্ডিয়ান রোজ ফেডারেশন।দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই জাতীয় সন্মেলনে ২৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন -খ্যাতনামা রোজারিয়ান , ব উদ্ভিদপ্রজননবিদ, উদ্যানবিদ, গবেষক ও ফুলচাষ বিশেষজ্ঞ। উপস্থিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন সঞ্জয় মুখার্জি, গিরিজা বিরারাঘবন ও লায়ন্স সাফারি পার্কের চেয়ারম্যান অশোক মেহতা। পারস্পরিক আলাপ আলোচনার গোলাপের উৎকর্ষতা বাড়ানোর নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন সবাই।

মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে ২৫০০ কাট রোজ। এর মধ্যে টবে গোলাপ ছিল প্রায় ৭০০ গাছ।একেকটি টবে একশ’র বেশি গোলাপ দেখে দর্শকেরা উচ্ছসিত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের কাছে বেঙ্গল রোজ সোসাইটির পক্ষে সভাপতি ড: নরেন্দ্র দাদলানি বলেন,অপেশাদার গোলাপপ্রেমীরা শুধু গোলাপ চাষ করেন না, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রসার ও অনুশীলন করেন আবেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ রোজ সোসাইটিজের সভাপতি সুশীল প্রকাশ বলেন, এদেশের গোলাপ ফুলের মান, বৈচিত্র্য বিশ্বমানের। বাংলার টবে তৈরি গোলাপের নেই প্রতিদ্বন্দ্বী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *