পর্ব:১৮৭

গ্রীক সমাজে মেয়েদের কাপড় বোনা ছিল আবশ্যিক কাজ।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : এথেন্সে বিশেষ কোনো উপলক্ষে , ধর্মীয় কাজে কেনাকাটা করতে বা পারিবারিক সামাজিক অনুষ্ঠানে মেয়েরা বাড়ি থেকে বেরোতে পারত। তবে অবশ্যই বাড়ির অভিভাবক বা দাসদাসী পরিবৃত হয়ে। তবে দরিদ্র শ্রেণীর মেয়েরা অন্নের সংস্থান করতে কাজের জন্য রাস্তায় বেরোতে বাধ্য হতো। কাজ বলতে আনাজ বা গবাদি পশু থেকে উৎপন্ন পণ্য বিক্রি বা কাপড় বোনার কাজ ছিল নির্দিষ্ট। তাও পরিবারে সমর্থ পুরুষ না থাকলে এই ছাড় মিলত।

গ্রীক সিম্পোজিয়াম ছিল গ্রীক পুরুষদের নৈশ বিনোদনের স্থান। মদ্যপান, জুয়া আর যৌনপেশার নারী সম্ভোগ ছিল মুখ্য বিনোদন।
অভিজাত পরিবারে মেয়েদের বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়ানো বা ছাদে একা দাঁড়ানো ছিল সামাজিক অসম্মানের ব্যাপার। বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে বাড়ির মহিলারা সামনে আসতেন না। বাড়ির প্রধান মহিলার তত্ত্বাবধানে দাস ও ভৃত্যেরা অতিথিদের ভ্যাপ্যায়ন করত। মহিলারা শুধু পারিবারিক অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে পারত। পুরুষের রাস্তায় বেরোত বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বা মল্লযুদ্ধ দেখতে । সিম্পোজিয়ামেও ছিল একমাত্র পুরুষের প্রবেশের অধিকার। সিম্পোজিয়াম অর্থাৎ নৈশভোজের স্থান। যেখানে মদ্যপান , বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকত এমন স্থান।বিখ্যাত বারাঙ্গনারাও সেখানে পুরুষ মনোরঞ্জন করত। এমন বর্ণনা মেলে প্লেটো, জেনোফন, প্লুটার্কদের লেখায়।

প্রাচীন গ্রীসে প্রথম যুগে মাতৃতান্ত্রিক সমাজের স্বাধীনতা মেয়েরা ক্রমশ হারিয়ে ফেলে পুরুষের আগ্রাসনে।
নিকোলাওস এ ভ্রিসিমটজিস এর প্রাচীন গ্রীসে প্রেম ও যৌন জীবন গ্রন্থের বাংলা অনুবাদক আনোয়ার হোসেনই মঞ্জু লিখেছেন- প্রথমদিকের যুগে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ছিল , মধ্যযুগে শুরু থেকেই মর্যাদা হারিয়েছিলেন মেয়েরা। এমনকি প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মেয়েদের যেটুকু স্বাধীনতা ছিল, তাও ছিল না মধ্যযুগের শুরু থেকেই। (চলবে)
পরবর্তী পর্ব আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার,২০২৬

