পর্ব :১৮২

পুরুষ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নারী সমকামিতা এক বিকল্প যৌনতা।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : যৌনতা শুধু পুরুষ বা নারী যৌনকর্মীদের মধ্যে আদানপ্রদান হয় তা নয়। নারী সমকাম বিশ্বে অধিকাংশ দেশে স্বীকৃত নয়।অথচ পুরুষ সমকামের মত নারী সমকাম ঐতিহাসিকভাবে সত্য। এই সম্পর্কে কয়েকটি পর্বে আলোচনা করছি। সাহায্য নিয়েছি সানন্দা সেন ও পিয়ালী হালদার সম্পাদিত প্রসঙ্গ নারী সমকাম একটি পাঠ গ্রন্থ। এই গ্রন্থের প্রথম নিবন্ধটির লেখক অর্ণব সাহা। লেখক এই গ্রন্থে ৩৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন কুইয়ার তত্ত্ব সেই অন্তর্গত ফ্লুইড চরিত্রকে ধারণ করে , যা হেটেরো / হোমো- এই বাইনারির বিনির্মাণ ঘটায়। সমস্ত ধরণের নরম্যাটিভ জীবনরণালী ও অভিমুখকে অস্বীকার করে।

নারী সমকামিতা নিয়ে জুডিথ বাটলার ও মাইকেল ফুকোর তত্ত্ব প্রসঙ্গে এই বইটি সমাজতত্ত্বের ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে জুডিথ বাটলার এবং ফুকো অত্যন্ত তাত্ত্বিক কন্ট্রিবিউশন রেখেছেন। বাটলার যেমন দেখিয়েছেন , জেন্ডার জিনিসটাই পারফমেটিভ এবং আধিপত্যবাদী , বিষম যৌনতার আধারে গড়ে ওঠা সাবজেক্ট-কে কেন্দ্রচ্যুত করেছেন তিনি। মিশেল ফুকোর হিস্ট্রি অফ সেক্সুয়ালিটি, প্রথম খন্ড, যেমন কুইয়া স্টাডিজের আদিগ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বাটলার এবং ইভ সেগউইক গে -লেসবিয়ান পলিটিক্স , নারীবাদী তত্ত্বকে পোস্টমডার্ন কালখন্ডের অন্তর্গত একটি ঝুঁকিপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনার জায়গায় নিয়ে গেছেন। তাঁর সমস্ত এসেনশিয়ালিস্ট যৌন- অস্তিত্বের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছেন। হেটেরো- ডিসকোর্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা যাবতীয় , নৈঃশব্দের দরজা এর ফলে ভেঙে পড়েছে। এভাবেই নারীবাদী তত্ত্ব এবং কুইয়ার তত্ত্বের মধ্যবর্তী। সংযোগ আরও দৃঢ় হয়েছে দিনেদিনে।

মাইকেল ফুকোর এই গ্রন্থটি পাশ্চাত্যে ৭০/৮০ দশকে যৌনবিপ্লব ঘটায়।
ফুকোর যৌনতা- বিষয়ক আলোচনা থেকেই কুইয়ার তত্ত্বের সূত্রপাত এরকম ভাবা যায়। অন্তত ৭০-৮০ দশকের কুইয়ার – আন্দোলনের জিনিওলজি আমরা খুঁজে পেতে পারি ফুকোর তত্ত্বে। হিস্ট্রি অফ সেক্সুয়ালিটি -র প্রথম খণ্ড লেখা হচ্ছে সেইসময় যখন পাশ্চাত্যে যৌনবিপ্লব ঘটছে। সাধারণ ধারণায়। এটাই ভাবা হত যে পাশ্চাত্যে সতেরো শতক থেকে b উনিশ শতক হয়ে। বিশ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত যৌনতা অবদমিত হয়েছে।( চলবে )
পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ,১৯ জানুয়ারি,২০২৬

