পর্ব : ২০৫

বাৎস্যায়নের কামসূত্রে গণিকাদের সামাজিক সম্মানের কথা উল্লেখ আছে।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতের হিন্দু পুরাণে ও তথাকথিত মধ্যযুগের লিখিত মহাকাব্যে বেশ্যাদের বারবণিতা , স্বাধীনযৌবনা নামে অভিহিত করা হয়েছে। বাৎস্যায়নের কামশাস্ত্রে গণিকাদের রূপাজীবা বলা হয়েছে। আদি মধ্যযুগে ক্রীতদাস ও ভোগ্যনারীদের সমাজের প্রয়োজন হিসেবে গণ্য হতো।

সংস্কৃত সাহিত্যে বিশাখ দত্তের মুদ্রারাক্ষস গ্রন্থে গণিকাদের উল্লেখ আছে।
এবার দেখা যাক প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে বেশ্যাদের কোথায় কোথায় কিভাবে উল্লেখ হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম দশকে বিশাখ দত্ত রচনা করেন মুদ্রারাক্ষস। ভবভূতি রচনা করেন মালতীমাধব ,১২ শ শতকে সংকলন করেন শ্রীধর দাস সুক্তিকর্ণামৃত,১১ শতকে সোমদেব ভট্ট রচনা করেন কথা সরিৎসাগর, সপ্তম শতকে বাণভট্ট রচনা করেন কাদম্বরী, কালিদাসের পূর্বকালে ভাস রচনা করেন চারুদত্ত, ষষ্ঠ শতকে বিষ্ণু শর্মা লেখেন পঞ্চতন্ত্র,অষ্টম শতকে দণ্ডী লেখেন দশকুমার চরিত্র, কলহন ১২; শতকে লেখেন রাজ তরঙ্গিনী, দামোদর গুপ্ত অষ্টম নবম শতাব্দীতে লেখেন কুট্টনীমতম।

ক্ষেমেন্দ্র রচিত সাহিত্য গ্রন্থে রচিত হয়েছে গণিকাদের সামাজিক স্খলনের কথা।
তবে অষ্টম নবম শতাব্দী থেকেই যে গণিকাদের সামাজিক অবস্থান ক্রমশ অবনতির দিকে যেতে থাকে। এসব উল্লেখ আছে ক্ষেমেন্দ্র ওদামোদর গুপ্তের লেখা থেকে। গণিকাদের এই সামাজিক সংকটের কারণ যেমন কিছুটা রাজনৈতিক, তেমন আর্থ- সামাজিক অবস্থার কারণে। গণিকাদের অবস্থান দেবস্থান থেকে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে প্রতারক জুয়াচোরদের আড্ডায় স্থান হয়। ফলে গণিকাদের যে মূল্যবোধটুকু ছিল ,সেটুকু হরিয়ের যায়। গণিকাদের যে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা ছিল অন্যতম শর্ত সেটি শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে দেহব্যবসায় নিহিত হয়ে যায়। (চলবে)
পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ১০ এপ্রিল,২০২৬

