শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২০০

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সেযুগের খ্যামটা বা নাচনি সংস্কৃতিতে যৌনতাই যেমন মূল বিষয়, এযুগে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার নামে নারী দেহ চোখে দিয়ে লেহন করার সংস্কৃতি ক্রমশ বাড়ছে। এই সংস্কৃতিতে শুধু মেয়েরা নয়, লিঙ্গান্তর করা মানুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও অধ্যায় হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিদেশে তো পর্ণো ছবিও খুবই জনপ্রিয়। ডিজিটাল দুনিয়ায় মুঠোফোনের দৌলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে যা নেশার বস্তু। এই সম্পর্কে স্বদেশ চর্চা লোক শারদ ২০১৬ সংখ্যায় স্বাতী ভট্টাচার্য শেষ পারানির কড়ি- নগ্ন নারীদেহ প্রবন্ধে ( পৃষ্ঠার:৭৮) লিখেছেন,,, পর্ণোগ্রাফি বলছে, বই, ভিডিও প্রভৃতি যা নগ্ন দেহ বা যৌনক্রিয়ার বর্ণনা দেয় বা দেখায়মানুষের মধ্যে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, বিশেষত এমনভাবে যা অন্য অনেক মানুষ আপত্তিকর মনে করতে পারেন ।

তিনি আরও লিখেছেন, গণমাধ্যমের ইতিহাস যত দীর্ঘ, এই বিতর্কের দৈর্ঘ্যও ঠিক ততটাই। জোহান গুটেনবার্গ ছাপার প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাইবেল প্রকাশ করলেন ১৪৪৮ সাল নাগাদ। ছাপার অক্ষরে যেসব বই প্রকাশ পেল তার প্রথম কয়েকটির মধ্যে রয়েছে ii Decamerone, যাকে বস্তুত ‘ইরোটিকা’ বলা চলে। ইরোটিকা মাত্রই অবশ্য পর্ণোগ্রাফি নয়, তবে সেযুগে মানুষ যে এই নিয়ে যথেষ্ট বিব্রত বোধ করেছিল, তার প্রমাণ এই যে ১৯৪৭ সালে ফ্লোরেন্সে এর বিভিন্ন অধ্যায় আগুনে পুড়িয়ে রীতিমত বনফায়ার করা হয়েছিল। গণমাধ্যমে এর পরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্ভবত ফটোগ্রাফি আবিষ্কার।১৮৩২ সালে ফটোগ্রাফি আবিষ্কার হওয়ার চল্লিশ বছর পর ,১৮৭৪ সালে পুলিশ লন্ডনে ফটোগ্রাফার হেনরি হেলারের বাড়ি রেড করে এক লক্ষ তিরিশ হাজার অশ্লীল ছবি এবং পাঁচ হাজার স্লাইড উদ্ধার করে। ততদিনে পড়াশোনা জানা লোকের সীমিত গণ্ডি ডিঙিয়ে পর্ণোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়েছে অনেক মানুষের মধ্যে।

এটাও ঐতিহাসিকভাবেসত্য, মুভি সিনেমা আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন নিজেও একটি যৌনগন্ধী ছবি বানান দি কিস। সময়টা ১৮৬৬। এরপর থেকে দক্ষিণ আমেরিকায় শুরু ব্লু ফিল্ম তৈরির চল।১৯৬৪ সাল। ডেনমার্কে ড্যানিশ ভাষায় অনূদিত হয় একটি ইংরেজি বই মেমোয়ারস অফ এ ওম্যান অফ প্লেজার। কিন্তু বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ বইটি ছিল আদতে একটি পর্ণোগ্রাফি বই। এমনই অভিযোগ। বইটিতে ছিল যৌনমিলনের বিস্তৃত বিবরণ। যদিও পরে বইটিকে প্রথমে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট ছাড়পত্র দেয়। তৎকালীন ড্যানিশ সরকার ক্রিমিনাল ল কমিটিকে দিয়ে একটি তদন্ত চালায়। কমিটি জানায়, বইটির প্রতিক্রিয়ায় যতক্ষণ ড্যানিশ নাগরিকদের ক্ষতি হচ্ছে কি না জানা না যাওয়ার পর্যন্ত বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যায় না। কমিটির রায়কে সমর্থন জানায় মেডিকো লিগ্যাল সার্ভিস। এই সংস্থার অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন ডাক্তার। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ২৩ মার্চ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *