বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব :১৯১

জেমস ফ্রেজার লিখিত গ্রন্থ দি গোল্ডেন বাফ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : জেমস ফ্রেজার তাঁর দি গোল্ডেন বাফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন মালয় দেশে একটা প্রথা ছিল খোলা -বুকে মেয়েরা শস্যকাটে। তাদের জাদু বিশ্বাস b, যেসব মেয়েরা যত কম পোশাকে শস্য কাটবে, শস্যে তভূষি কম থাকবে। বাভারিয়া ও অস্ট্রিয়ার চাষিদের বিশ্বাস ছিল অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শস্য ক্ষেত্রে বলি দিত। লোকবিশ্বাস v জমির উর্বরতা বাড়বে। আফ্রিকার মেনুকা আদিবাসীরা উর্বরতার প্রতীক হিসেবে কাঠের নগ্ন মূর্তি ফসলের জিমিটের রাখে। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী মেয়েরা নগ্ন দেহে শস্যের জমিতে জল সিঞ্চন করে।তাঁদের জাদু বিশ্বাস জমির উর্বরতা বাড়বে ও ফসল ভালো হবে।

ব্যাবিলনের ডেবিট ইস্তারা ও হিন্দু দেবী দুর্গার রূপ পরিকল্পনায় সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়।

লোকেশচন্দ্র বিশ্বাস তাঁর লোক সংস্কৃতি ও যৌন ক্ষুধা নিবন্ধে লিখেছেন, জেমস ফ্রেজার দি গোল্ডেন বাফ পুস্তকে সাইপ্রাস ও পশ্চিম এশিয়ার কিছু প্রথার উল্লেখ করেছেন। যেমন- সাইপ্রাসে একসময় প্রথা ছিল- সব রমণীকেই মাতৃদেবীর মন্দিরে অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলন ঘটানোর। সেই মাতৃদেবীকে নানা নামে ভূষিত করা হয়। যথা v- অ্যাফ্রোডাইট, ইস্তার। ব্যাবিলনে ইন্তারের মন্দিরে এই প্রথা পালিত হত। ইন্তারের সঙ্গে দেবী দুর্গার ভি সম্পর্ক খোঁজার হয়। একটা প্রথার ছিল বাত আছে দেবী দুর্গার মাটির মূর্তি তৈরি করতে বেশ্যাবাড়ির মাটি লাগে।

কামাখ্যার দেবী সতী ও কুমারীর পূজা সবই যৌন প্রতীক ।

এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। মাতৃরূপের কল্পনা, নারীর প্রজনন শক্তির সঙ্গে মাটির সম্পর্ক স্থাপন , মাটির উর্বরতাশক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনায় যৌনক্রিয়ার ইত্যাদি প্রাচীন বিশ্বের লৌকিক আচার প্রথা। লিঙ্গ, যোনি, গর্ভাধার বিস্তর পূজা আচারের অনুষঙ্গ। দুর্গাপূজার যোনিচিত্র, ঘট, নবরাত্রি উৎসবের ঘট এবং স্বয়ং শিবলিঙ্গ ও গৌরীপট, কামাখ্যায় সতীর যিনি পূজা, দুর্গা পূজায় কুমারী পূজা সবই তো যৌন প্রতীক। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার,২০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *