বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:১৯০

আদিম যুগের মানবের যৌনতার সঙ্গে বিশেষ পার্থক্য আজও নেই।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : প্রতি যুগেই নারী সন্তান উৎপাদনের এবং যৌন সুখের উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।বিবাহিতার নারীর সঙ্গে বারবনিতার খুব একটা পার্থক্য ছিল না। এই সম্পর্কে লোকেশ্র চিন্দ্রি বিশ্বাস স্বদেশচর্চা লোক পত্রিকায় ২০১৬ শারদ সংখ্যায় ৪৩০ পৃষ্ঠায় একটি নিবন্ধে লেখেন। নিবন্ধটির নাম লোক সংস্কৃতির ওর যৌন ক্ষুধা। লেখক লিখেছেন, সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে মানুষের তিনটি চাওয়া- পাওয়া ছিল। নিজগোষ্ঠীর মেয়েরা প্রচুর সন্তানের জন্ম দিক, গৃহপালিত পশুপাখির অনেক বাচ্ছা হোক, নিজ গোষ্ঠীর দখলে থাকা জমিতে অনেক ফসল হোক।,,,,

সন্তান ও ফসল উৎপাদনে নারীর প্রয়োজন ছিল আদি পুরুষ মানবের।

কৃষিকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে ওঠার ফলে মানুষের প্রজনন শক্তি ও প্রক্রিয়া আর যৌনক্রিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে মাটির উর্বরাশক্তি বাড়ানোর কল্পনা। অর্থাৎ উর্বরতাতন্ত্র । যৌন , চিত্র ও মন্ত্র নিয়ে তৈরি হলো তন্ত্র। বিশ্বজোড়া কৃষি আচার, পূজা , বিয়ের অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে জড়িয়ে আছে যৌনশক্তি যৌন ক্রিয়ার সঙ্গে। অর্থাৎ যৌন প্রতীক অনেক্ট পূজার সঙ্গে যুক্র। দুর্গাপূজায় যে তন্ত্র আঁকা হয় , তার মধ্যে পদ্মের পাপড়িগুলি যোনির প্রতীক। জলে ভর্তি ঘট নারীদেহের গর্ভভান্ড।

হিন্দু পুরাণে দেবী শাকম্ভরী।

মার্কণ্ডেয় পুরাণে দেবী মাহাত্ম্যের অংশে উল্লেখ আছে- আমি জীবনদায়ী শাকসবজি দিয়ে পৃথিবীকে রক্ষা করব। এই শাকসবজি আমার শরীরে থেকে উৎপন্ন হবে বর্ষাসমাগমে । আমার পরিচয় হবে শাকম্ভরী নামে। নারীদেহের সঙ্গে শস্য – উদ্ভিদের সম্পর্ক অতি প্রাচীনকাল থেকে । যেমন মহেঞ্জদড়োতে পাওয়া একটি দুপিঠে খোদাই সিলমোহর থেকে যেখানে শস্যক্ষেত্রের ওপর এক নগ্নিকা নারীকে বলি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে,এই দৃশ্য খোদিত আছে। অপর পিঠে আঁকা হয়েছে শস্যক্ষেত্রের উপর দু -পা ছড়িয়ে শায়িত নগ্ন নারীর b যোনি থেকে একটা চারা গাছে বেরিয়েছে। নারী বলির রক্তে শস্য ক্ষেত্র সিক্ত হলে ফসল ভালো হবে এই জাদুবিশ্বাস ছিল। (চলবে )

আগামী পর্ব , সোমবার ,১৬ ফেব্রুয়ারি,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *