পর্ব :১৮৯

গ্রীক সভ্যতার প্রেম, বিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদ, রক্ষিতা, ব্যভিচার সব কিছুই উল্লেখ করেছেন হোমার তাঁর ইলিয়াড ও ওডিসি মহাকাব্যে।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: গ্রীক সভ্যতার আলোচনা করতে হলে ইলিয়াড ও ওডিসি মহাকাব্যের কথা বাদ দিলে হয় না। ইলিয়াড ও ওডিসির রচয়িতা হোমার গ্রীক সমাজের মানবিক প্রেম , আবেগকে যেমন কাব্যে স্থান দিয়েছেন তেমনই বিয়ে বা বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়েও লিখেছেন। ব্যভিচার বা রক্ষিতা সম্ভোগের কথাও উল্লেখিত হয়েছে। এই সম্পর্কে গ্রীক লেখক নিকো লাওস এ ভ্রিসিমটিজিস -এর একটি গ্রন্থের বাংলা অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু তাঁর প্রাচীন গ্রীসে প্রেম ও যৌনজীবন গ্রন্থে আলোচনা করেছেন।

স্পার্টার হেলেন এক রহস্যময়ী চরিত্র গ্রীক মহাকাব্যে।
লেখক ১৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন ব্যভিচার ও অবিশ্বস্ততা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ব্যাপার ছিল এবং এ কারণে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের যাতনা ভোগ করারও উল্লেখ পাওয়া যায়। ওডিসিতে দেখা যায় যে, আগা মেমননকে হত্যা করে তার স্ত্রীর প্রেমিক এবং ক্লাই টেমমনেস্ট্রাকে একইভাবে শাস্তি প্রদান করে তার পুত্র ওরেস্টেস। অন্যদিকে হেলেন ফিরে আসেন স্পার্টায়, যেখানে তিনি আবার মেনেলাসের বৈধ স্ত্রী হিসেবে বাস করতে থাকেন, যদিও তার কারণে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে এবং অসংখ্য লোকের মৃত্যু ঘটে সেই যুদ্ধে।

গ্রীক সমাজে কুমারীত্ব নিয়ে তেমন রক্ষণশীলতা ছিল না। বহু অবিবাহিতা মেয়েদের সন্তান থাকত।
লেখক অনুবাদক হোসেইন মঞ্জু লিখেছেন, কোন তরুণীর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে কুমারীত্ব খুব প্রয়োজনীয় কিছু বলে বিবেচিত হতো না গ্রীক সমাজে এবং কুমারী বলতে অবিবাহিতা তরুণীদেরকেই বোঝানো হতো। ভবিষ্যৎ স্ত্রীর ক্ষেত্রেও কুমারী হওয়াকে আর বিশেষ কোন গুণ হিসেবে ধরা হতো না বলেই মনে হয়। তখনকার সমাজে বিবাহ -পূর্ব দৈহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব ছিল, যা বিভিন্ন বর্ণনায় তরুণী মেয়েদের অবৈধ সন্তানের উল্লেখ থেকে স্পষ্ট এবং এরফলে তাদের নৈতিক বা সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে কোন হানিকর কোনকিছুই উল্লেখ নেই। (চলবে)
পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি,২০২৬

