পর্ব :১৮৮

স্বয়ং প্লেটো পর্যন্ত নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন না। একমাত্র ট্র্যাজিক নাটক ছাড়ার গ্রীক সমাজে নারীদের নাটক দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বেশ কয়েকটি পর্ব ধরে গ্রীক সমাজের আদিতে নারীদের সামাজিক অবস্থানের পাশাপাশি যৌনকর্মীদের জীবনযাত্রা প্রসঙ্গে আলোচনা করছি। প্রশ্ন উঠতে পারে সেই অতীতের যুগের নারীর যখন সঠিক অর্থে স্বাধীনতা গ্রীসের ছিল না,সেক্ষেত্রে গ্রীসের বিখ্যাত নাটক দেখার ক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতা ছিল কি? হ্যাঁ। নাটক দেখার স্বাধীনতার ছিল । তবে শুধুমাত্র ট্র্যাজিক নাটক। এথেনীয় সমাজে মেয়েদের অবস্থান , তাঁদের ওপর আরোপিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কঠোর নৈতিকতার দায় চাপানো হতো। ফলে হাস্যরস, যৌনতাগন্ধী পরিহাসমূলক অশ্লীল শব্দ যেসব নাটকে সংলাপ হিসেবে ব্যবহার হতো, সেইসব নাটক গ্রীক মহিলাদের দেখার নিষিদ্ধ ছিল।প্লেটর পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছিলেন তাঁর লিখিত আইনে।

গ্রীক বুদ্ধিজীবীর রচনাতে মিলেছে গ্রীক সমাজে নারীর অবস্থানে সম্পর্কে করুণ চিত্র।
প্রাচীন গ্রীক সমাজের এই নারীদের অবস্থানগত পরাধীনতা সম্পর্কে বুদ্ধিজীবী ডেমোসথেনেস তাঁর বক্তব্যে লিখেছেন , উপভোগের জন্য আমাদের আছে বারাঙ্গনা। প্রতিদিনের ব্যক্তিগত সেবাযত্নের জন্য আছে রক্ষিতা ও সন্তান এবং ঘরকন্নার কাজে আছে বৈধ স্ত্রীরা। তবে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যখন গ্রীক সমাজ ছিল , তখন কিন্তু পুরুষদেরকে প্রতি নারীরা অত্যধিক কোনো প্রভাব বিস্তারে করতেন না। অনেকক্ষেত্রে অবশ্য বলত হয়, মাতৃতান্ত্রিক যুগে মেয়েরাও পুরুষদের ওপর অত্যাচারে করত। তবে ধনী পরিবারের নারীরা স্বাধীনতা ভোগের নামে নিজেরা মত্ত থাকতেন। ফলে যথার্থ অর্থে স্বাধীনতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছিল না নারীদের। ফলে এই সুযোগে পুরুষেরা বহুগামীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নেন সুচতুর পরিকল্পনায়।

পুরুষেরা যেকোনো কারণে দেখিয়ে স্ত্রীদের পরিত্যাগ করতে পারতেন। কিছু কারণে স্ত্রীদের শাস্তিও দিতে পারতেন।বিবাহিত পুরুষের ইচ্ছেমত রক্ষিতা রাখতে পারতেন। এছাড়াও প্রকাশিত পথেও কোনো বারাঙ্গনাকে পছন্দ হলে তাঁদের নিয়ে ফুর্তি করাতে সমাজের নিষেধে ছিল না। সমাজ , রাষ্ট্র এই বিষয়টিকে অন্যায় হিসেবে বিবেচনার করত না। (চলবে)
পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি,২০২৬

