বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:১৮৬

প্রাচীন যুগে স্পার্টার নারী।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: অন্যদিকে স্পার্টায় মেয়েদের দায়িত্ব ছিল শাসকগোষ্ঠীর বংশরক্ষার জন্য সুস্থ সবল সুদেহী সন্তানের জন্ম দেওয়া। তাই শারীরিক শ্রম করত নিয়মিত। এথেন্সের মানুষদের কাছে এই বিষয়টা ছিল বেদনাদায়ক। তাঁরা স্পার্টার মেয়েদের উল্লেখ করত উরু প্রদর্শনকারী ( phainomirides) হিসেবে। কারণ কায়িক পরিশ্রম বেশি করায় স্পার্টার মেয়েদের উরু উন্মুক্ত থাকতে। স্পার্টার মেয়েটার সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করতে শাসক গোষ্ঠীর মনোরঞ্জনের জন্য। এমনই তথ্য লিপিবদ্ধ তথ্য পরিবেশন করেছেন অনুবাদক , লেখক আনোয়ার হোসেনই মঞ্জু তাঁর প্রাচীন গ্রীসে প্রেম ও যৌন জীবন গ্রন্থে।

স্পার্টার মহিলা কবি স্যাপ হো প্রথম দিকে সমাজে স্বীকৃত ছিলেন না।

লেখক আরও লিখেছেন, ইতিহাসে দেখা যায় যে খ্রিস্টপূর্ব ৬ ষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর দিকে লেসবস দ্বীপে তরুণী মেয়েদের জন্যে শিক্ষাদান সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয় বিখ্যাত মহিলা কবি স্যাপহো’র নির্দেশনায়, যে কবিকে মানুষ তখন ভুল বুঝেছিল। অ্যাওলিক এর অন্যান্য নগর এবং আইয়োনিয়ায় মেয়েদের শিক্ষা ও আচরণের দিক লেসবসে আচরিত নৈতিকতার মতোই শিথিল ছিল। এথেন্সের তরুণীদের বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে মিশতে দেয়া হতো না এবং কোনো তরুণী যাকে বিয়ে করবে তাকে পছন্দ করারও নৈতিক অধিকার ছিল না। মেয়েদের আইনানুগ অভিভাবকেরা তার ভবিষ্যত স্বামী বাছাই করতো,সেক্ষেত্রে তরুণীর পছন্দ বা অপছন্দের কোনো মূল্য ছিল না। সব বিয়ে হতো পরিবারের ও রাষ্ট্র শাসকদের স্বার্থে।

স্পার্টার নারীদের স্বামী নির্বাচনে কোনো স্বাধীনতা ছিল না।

বিয়ের পরও মহিলাদের অবস্থানরত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটতো না। যদিও চলাফেরার ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা স্বাধীনতা ছিল। বিয়ের পর স্বামী হতো বিবাহিত মেয়েদের নতুন প্রভু। মেয়েদের বাড়ির ব্যবস্থাপনা দেখার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির পরিবর্তন ঘটতো।সন্তানদের লালনপালন, দাসেদের তত্ত্বাবধান, খাদ্যসামগ্রীর দেখভাল, কৃষি ও গৃহপালিত পশুপাখির সংরক্ষণ , যত্ন, পরিবারের প্রয়োজনের সুতো কাটা ও কাপড় বোনার কাজ ছিল নিত্যদিনের কাজ। বাড়ির চাবি মেয়েদের কাছে থাকলেও স্বামী যেকোনো সময় তা কেড়ে নিয়ে পারতো। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *