বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব: ১৮৪

প্রাচীন গ্রীসে নারীর অবস্থান ছিল ঘরে চার দেয়ালের মাঝখানে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: যৌনকর্মীদের নিয়ে কিছু আলোচনা করতে হলে সেযুগের নারীর সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা গড়ে তোলা দরকার। গ্রীসের এক ইতিহাসবিদ নিকোলাওস এ ভ্রিসিমটজিস এর লেখা একটি গ্রন্থের কিছু অংশ সম্পাদনা করে অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের অনুবাদক আনোয়ার হোসেনই মঞ্জু। তিনি তাঁর গ্রন্থের ২০ পৃষ্ঠায় নারীর সামাজিক অবস্থান শীর্ষক প্রবন্ধের অনুবাদ করে লিখেছেন ,,,, যে কোন যুগে পুরুষ ও নারীর মধ্যেকার প্রেমের সম্পর্ক উভয়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীর অবস্থানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

প্রাচীন গ্রীসে নারী সংসার প্রতিপালনে স্বাধীন হলেও অধিকারের ক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিলেন।

অনুবাদক লিখেছেন, প্রাচীন গ্রীক সমাজে মহিলারা সামাজিক অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিল এবং বর্তমান যুগের মান অনুযায়ী মহিলাদের ভূমিকা ছিল পুরুষদের অধীনস্থ থাকার ভূমিকা। তবে এমন ভাবার কারণ নেই যে তাদের অবস্থান একেবারে গুরুত্বহীন ছিল। গ্রীকরা মহিলাদের ওপর কিছু দ্বায়িত্ব ন্যস্ত করেছিল, যা তাদের ওপর প্রকৃতিপ্রদত্তই বলতে হবে। যেমন মাতৃত্বের দায়িত্ব এবং বীরাঙ্গনা হওয়ার দায়িত্ব।

মধ্যযুগে গ্রীসে নারীর অধিকারের অভিভাবক ছিল পুরুষেরাই।

সবদেশে সব যুগে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করার সাধ প্রতিটি নারীর আকাঙ্ক্ষা। বাস্তবে এটাই তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। নারীর জীবনের প্রধান জগৎ হচ্ছে তার গৃহ ও তার পরিবার। নারী গৃহের কর্ত্রী হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে কোনো আইনানুগ লেনদেনের ক্ষেত্রে তাদের অধিকার প্রাচীন গ্রীক সমাজ দেয়নি।বিশেষ করে তাদের সম্পত্তির অধিকার ছিল না ছিল না সম্পত্তি কেনা বা বেচার অধিকার। নারীর অধিকারের প্রতিনিধিত্ব থাকত পিতা, স্বামী, ভাই বা পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্যের। অর্থাৎ লোকদেখানো স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে নারী ছিল পুরুষের অধীনে। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ২৬ জানুয়ারি,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *