
********
দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : ৩১ বছর আগে কলকাতার প্রবাসী দক্ষিণ ভারতের বিশেষ করে কেরালার মানুষ ভগবান বিষ্ণুর মন্দির গড়ে তোলেন। উপাস্য দেবতার নাম দক্ষিণী সংস্কৃতিতে গুরু বায়ারাপ্পান। মন্দিরের নামকরণ তাই শ্রী গুরুবায়ারাপ্পান সমাজম্।১৫ জানুয়ারি উৎসবের শুভ সূচনা করেন রাজ্যের রাজ্যপাল ড: সি ভি আনন্দ বোস এবং গুরুবায়ুর টেম্পল তান্ত্রী ব্রিগেডিয়ার শ্রী ড: দিনেশান নাম্বুদ্রিপাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। পূজার্চন ছাড়াও প্রথমদিন ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয়দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্য আকর্ষণ ছিল ভারতনাট্যম শিল্পী নাট্যশ্রী গুরু অধ্যাপক দেবযানী চ্যাটার্জি ও তাঁর ছাত্রছাত্রীদের নৃত্যানুষ্ঠান।
রাধার কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তের ভক্তির আধারে তৈরি নৃত্যের সঙ্গে ছিল মহাভারতের উপাখ্যান অবলম্বনে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ পর্বটি। ভারতনাট্যমের নৃত্যশৈলীতে ফুটিয়ে তুলে প্রশংসিতহন দেবযানী চ্যাটার্জি। ভারতনাট্যম মূলত পুরাণকাহিনী নির্ভর এক নৃত্যশৈলী। ১৬ শ শতাব্দীতে যা পরিবেশন করতেন দেবদাসীরা তামিলনাড়ুর সাদির নামে এক মন্দিরে। ভরতমুনির সৃষ্ট এই নৃত্যশৈলী হাতের মুদ্রা, অঙ্গভঙ্গি, পদ সঞ্চালন, শরীরী ভঙ্গিমার এক মিলিত রূপ। কর্ণাটকী ঘরানার ধ্রুপদী সঙ্গীত নির্ভর এই নাচ বাংলার আধুনিক সমাজে প্রচার ও প্রসারে রাখার দায় দেবযানী করে চলেছেন নিজস্ব মেধায়। এইদিনের অনুষ্ঠানে দেবযানী চ্যাটার্জি ও তাঁর ছাত্রছাত্রীদের নিবেদন উপস্থিত দর্শক ও মন্দির কমিটির প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দেবযানী জানালেন, এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর নাচের বিষর মধুর ভক্তি গাঁথা। ভারতের আধ্যাত্মিক দর্শনে শ্রীকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকের রচনাকারেরা রচনা করেছেন । সেই বৈচিত্র্যকে সমন্বয়ের ঘটানোর চেষ্টা করেছি। সেই আত্ত্বিক নিবেদন সঠিকভাবে পরিবেশন করলে দর্শকরূপী ভগবানের আশীর্বাদ মেলে। ২০শে জানুয়ারি আমরা প্রবাহ কলাভূমির উদ্যোগে এই মন্দিরে পরিবেশন করছি দক্ষিণ ভারতের মার্গলি উৎসবের আয়োজন করেছি। মাঘমাসে এই উৎসব যা দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃতি এই প্রথম বাংলায় উপস্থাপন করছি। এই শুভ মুহূর্তে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আধারে ১২ জন বাংলার নৃত্যশিল্পীকে নিয়ে দক্ষিণী সংস্কৃতির নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করছি।
