
*****
দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: নদীয়া জেলার গণ আন্দোলনের অন্যতম লড়াকু সৈনিক আমির চাঁদ শেখ প্রয়াত মায়ের শেষ ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে তাঁর চক্ষুদান করেন ।স্থানীয় প্রতিবেশীরা অঙ্গ বিক্রির অভিযোগ থানায় দায়ের করায় স্থানীয় পুলিশে আমির চাঁদ শেখ আর তাঁর পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পরের দিন আদালতে চালান করে। অভিযুক্তের মায়ের মরদেহ পাঠানো হয় কল্যাণী মর্গে। আদালতের নির্দেশের তিনদিনের জেল হেফাজত হয়। শেষপর্যন্ত যুক্তিবাদী সমাজকর্মী ও বিজ্ঞানকর্মীদের যৌথ প্রতিবাদে উত্তাল হয় বাংলা।

শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সমাজসেবী সংগঠন গণদর্পণ, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ সহ আরও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চের উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন হয়। এই সন্মেলনে বহু সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জামিনে মুক্ত সমাজকর্মী আমির চন্দ্র শেখ। ছিলেন বিশিষ্ট বামপন্থী চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। আমির তাঁর বক্তব্যে বলেন , রীতিমত পরিকল্পনা করে আমার প্রতিবেশীর যেমন আমাকে নির্যাতন করেছে তেমনই কোতোয়ালি থানার আধিকারিক থানায় আমাদের জীবন রক্ষার নামে তুলে নিয়ে এসে রাত একটা পর্যন্ত বসিয়ে রাখের। এরপর আমরা জানি আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে অঙ্গ চুরির দায়ে। সকালে আদালতে হাজির করানো হবে। থানার আধিকারিক একবারও পশ্বের ঘরে বিশ্বের আমার কোনো বয়ানে নেয়নি। চক্ষুদানের যাবতীয় কাগজপত্র পুলিশের হাতে দিয়েছিলাম। সেই রাতেই মায়ের মৃতদেহ পুলিশ কল্যাণী মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম বলেন, পুলিশের অতিরিক্ত তৎপরতা আর আদালতের জেলে পাঠানোর নির্দেশে হতবাক হয়েছি। স্থানীয় মানুষের অজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না, কিন্তু পুলিশ কীকরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়। আমিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ সে নাকির মায়ের কিডনি বিক্রি করে দিয়েছে। অভিযোগ সত্যি কি না পুলিশ খতিয়ে দেখবে না? আমির নিজে চোখ সংগ্রহের কাজে সরকারি স্বীকৃত ব্যক্তি। মায়ের চোখ দানের আইনি নথি থাকা সত্ত্বেও এমন নিন্দনীয় পদক্ষেপ এই সামাজিক আন্দোলনকে ক্ষতি করল।
বিনা দোষে স্বপরিবারে জেল খাটলাম আপনাদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, এলাকার ষড়যন্ত্রকারীরা এবং থানার আধিকারিককে উপযুক্ত শাস্তি যেন দেওয়া হয়।জড়িত তিনি তা না করেন, বুঝব তাঁর ইচ্ছেই আমার ও আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। দিগদর্শনের পক্ষে প্রশ্ন রাখা হয়, পুলিসের বিরুদ্ধে কি কোনো আইনি অভিযোগ আদালতে জানানো হবে? সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এবং আমির চাঁদ নিজে জানান ,অবশ্যই । সংগঠনের পক্ষে আরও জানানো হয়, আমির অভিযোগমুক্ত নন। জামিনে মুক্ত। আমাদের দাবি বিনা শর্তে আমির চন্দ্র শেখকে আদালত নিরপরাধ হিসেবে রায় দিক।
