পর্ব :১৮৩

যৌনতত্ত্বের গবেষক মিশেল ফুকো।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ঐতিহাসিকদের পূর্বের ধারণা ছিল পাশ্চাত্যে যৌন বিপ্লব ঘটেছে সতেরো থেকে উনিশ শতকে। কিন্তু ফুকো এই তাত্ত্বিকদের এই রিপ্রেসিভ হাইপোথিসিস থিয়োরি খন্ডন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন , যৌনতা কোনও স্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং এক জটিল ঐতিহাসিক , সমাজ -সাংস্কৃতিক নির্মাণ। এটি এমনভাবে আমাদের শরীরে অন্তরায়িত হয়, যাতে আমরা মনে করতে থাকি, যৌনতা আমাদের একটি একান্তে অধিকারের বস্তু, যাকে আমরা পজেস করি।

ডেভিড হ্যালপিন ফুকোর তত্বকে নিখুঁত বিশ্লেষণ করেছেন তাঁর গ্রন্থে।
কিন্তু ফুকোর মতে, যৌনতা একটি উৎপাদন ,যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ডিসকোর্সের মাধ্যমে প্রসূত হয়ে ওঠে। ডেভিড হ্যালপেরিন ফুকো বিষয়ক তাঁরঅসামান্য বইতে এই উৎপাদন- প্রক্রিয়া নিয়ে ফুকোর মতামত বিস্তৃতভাবে জানিয়েছেন। ফুকো সেক্সুয়ালিটি নিয়ে আদৌ ততটা চিন্তিত নন, যতটা সমাজে কোন প্রক্রিয়ায় এটি ক্রিয়া করে সেই পদ্ধতির বিশ্লেষণ তাঁর কাছে ছিল গুরত্বপূর্ণ।

মানব জীবনে যৌনতা এক প্রক্রিয়া তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা মিশেল ফুকো।
যৌনতা ফুকোর কাছে একধরণের ক্ষমতা -সম্পর্ক। পাশ্চাত্যের প্রেক্ষিতে তিনি এটিকে বলেছেন , সায়েন্সিয়া সেক্সুয়ালিস বা যৌনতা সম্পর্কিত বিজ্ঞান, যা মূলত খ্রিস্টীয় কনফেশন প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভুত হয়ে পরবর্তী মেডিক্যাল, আইনি, শিক্ষাদান- পদ্ধতি, পারিবারিক অনুশাসন হয়ে আধুনিক মনো- চিকিৎসা – পদ্ধতির একইভাবে কাজ করেছে। যেন নারী- পুরুষ, বালক- বালিকা সকলের সম্পর্কেই যৌনতা- সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক সত্য উৎপাদন করা যায়। এমনটাই বর্ণনা করেছেন প্রাবন্ধিক অর্ণব সাহা তাঁর প্রবন্ধে।( প্রসঙ্গ নারী সমকাম: একটি পাঠ, প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স, কলকাতা, প্রথম সংস্করণ ২০২৩) (চলবে )
পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি,২০২৬

